বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা রাজনৈতিকভাবে “দাফন” হয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও জনগণের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন, যা অস্থিতিশীলতা তৈরির শামিল।
শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪’-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভাটির আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও ইউট্যাব।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালালে তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের দায় ভারত এড়াতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চলমান এবং কিছু মামলার রায়ও হয়েছে। তবে এখনো তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। বরং গণআন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন বলেন, দেশে সহিংসতায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। এসব ঘটনার পরও তাকে গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত কি না—সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায় এবং পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো সম্পর্ক গ্রহণযোগ্য নয়।
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, সংবিধানে সংশোধন এনে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও দেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটি কেবল স্বল্পমেয়াদি আন্দোলনের ফল নয়; বরং দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতার ফল। তিনি শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।