ভারতের আসামে বাঙালি মুসলমানদের ১১০০টির বেশি বাড়িঘর ও ১০টিরও বেশি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী। তিনি অভিযোগ করেছেন, মুসলমানদের বাড়িঘর ও মসজিদ ভেঙে দিয়ে ভারত মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভারতের আসাম ও উত্তরপ্রদেশসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। গত এক দশকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সংঘটিত রাষ্ট্রীয় অপরাধ পর্যালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তিন সদস্যের একটি প্যানেল রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের যথেষ্ট প্রমাণ পেয়েছে। গত ৩১ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আসাম ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে জাতিগত নির্মূলের ক্ষেত্র প্রস্তুতের অভিযোগ তোলা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ভারতে মুসলিম ঐতিহ্য ধ্বংসের প্রচেষ্টা চলছে। এর অংশ হিসেবে ১৯৯২ সালে ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিবাদ সত্ত্বেও দেশটিতে সংখ্যালঘুদের ওপর দমনপীড়ন অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে ভারত সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
বিবৃতিতে দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের কাছে অবস্থিত দেড়শ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক রেসকোর্স মসজিদ উচ্ছেদের নোটিশের বিষয়টিও তুলে ধরেন খেলাফত আন্দোলনের আমির। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭৭ সাল থেকে মসজিদটি সরকারি গেজেটভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত। নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকায় থাকা মসজিদটি গত ১৯ অক্টোবর ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নোটিশ দেওয়া হয়। গত ৭ অক্টোবর থেকে মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় মুসল্লিদের নামাজ আদায়সহ দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ ছাড়া ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কারণে ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানেরা নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ভারতের মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষায় আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ কামনা করে মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী বলেন, অন্যথায় নিপীড়নের পরিণতিতে ভারত একদিন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। ভারতে আবারও মজলুম মুসলমানদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।