শিয়া-সুন্নি বিরোধ উসকে না দিয়ে আগ্রাসী শক্তির মোকাবিলায় মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বখ্যাত ইসলামী স্কলার ও পাকিস্তানের বরেণ্য আলেম মুফতি তাকি উসমানি।
তিনি বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- মুসলমানদের এক থাকা। যদিও ইরানের অধিকাংশ মানুষ শিয়া মতের অনুসারী এবং আমাদের সঙ্গে তাদের আকিদাগত মতভেদ আছে, কিন্তু কোন সময়ে কোন কথা বলা উচিত সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। শিয়া-সুন্নি বিরোধকে উসকে দেওয়ার সময় এটা নয়। আমেরিকা কি এজন্য ইরানে হামলা করেছে যে তারা আমাদের আকিদার বিরুদ্ধে ছিল? না, বরং খামেনিকে একজন মুসলমানের প্রতিনিধি হিসেবে ধরা হতো বলেই তার উপর আক্রমণ হয়েছে। আর তারা এর মোকাবিলায় দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। তাই এদিক বিবেচনায় আমাদের তাদের সমর্থন করা উচিত।
সম্প্রতি পাকিস্তানের করাচি দারুল উলুমে দেওয়া বক্তব্যে মুফতি তাকি উসমানি এসব কথা বলেন।
বিশ্ববরেণ্য এ আলেম বলেন, বিশেষ করে এই সময়ে উম্মতে মুসলিমার জন্য দোয়ার খুব দরকার। কারণ গত কয়েক দিনে উম্মতে মুসলিমা ভয়ঙ্কর ফিতনার শিকার হয়েছে। আপনারা সবাই জানেন যে ইসরাইল ও আমেরিকা ইরানে হামলা করেছে। এই হামলা করতে কোনো লজ্জা-শরমেরও বালাই করেনি তারা। দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল এবং ইরান তাদের কিছু কথা মেনেও নেয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিল থেকে উঠে গিয়ে সরাসারি ইরানের ওপর হামলা করে বসলো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন আচরণকে বৈশ্বিক গুন্ডামি আখ্যা দিয়ে তাকি উসমানি বলেন, এখন এক ধরনের বৈশ্বিক গুন্ডামি শুরু হয়েছে যে ট্রাম্প যখন ইচ্ছা তখন কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের বাসায় বোমাবর্ষণ করে তাকে হত্যা করে ফেলবেন এবং সেই দেশ দখল করে নেবেন। ভেনেজুয়েলায়ও এমন করা হয়েছে। এবং প্রকাশ্য ঘোষণা করা হচ্ছে যে আমার অধিকার আছে যেকোনো দেশের উপর এভাবে হামলা করার। না কোনো জাতিসংঘ, না কোনো আন্তর্জাতিক আইন, না কোনো নৈতিকতা, না কোনো সহনশীলতা কিছুই মানা হবে না। আমিই সর্বেসর্বা, যেখানে ইচ্চা সেখানে গিয়ে বোমাবর্ষণ করব এবং যাকে চাই তাকে টার্গেট কিলিং করব।
সবাইকে ইরানের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইরানের উপর হামলা করে ইসরাইল ও আমেরিকা উম্মতে মুসলিমার বিরুদ্ধে বড় ধরনের চক্রান্ত করছে। এর উদ্দেশ্য হলো মুসলমানরা যেন এক না হতে পারে। মুসলমানদের মুসলমানদের সঙ্গেই লড়িয়ে দেওয়া।আমার দুঃখ হয় যে কিছু মানুষ বলাবলি করছে, আরে তারা তো শিয়া ছিল, ইরানের সঙ্গে আমাদের মতভেদ আছে ইত্যাদি। আল্লাহর বান্দারা! আমেরিকা ও ইসরাইল তাকে (খামেনি) এজন্য মারেনি যে তিনি শিয়া ছিলেন। তারা হামলা করেছে এজন্য যে তাকে মুসলিম বিশ্বের একজন প্রতিনিধি মনে করা হতো।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বিষয়ে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের চেষ্টারও সমালোচনা করেন মুফতী তাকী উসমানি। তিনি বলেন, ইরানের নেতাকে টার্গেট কিলিং করে হত্যা করা হয়েছে এখন তারা যখন নতুন নেতা নির্বাচন করতে চায়, তখন ট্রাম্প বলছেন, আমাকে এই পরামর্শে অন্তর্ভুক্ত করো যে তোমাদের নতুন নেতা কে হবে। তোমরা যাকে নির্বাচন করেছ তাকে আমি মেনে নিচ্ছি না। এর চেয়ে বড় বৈশ্বিক ধোঁকাবাজি, গুন্ডামি আর কী হতে পারে?
মুফতি তাকি উসমানি বলেন, ইসরাইল ও আমেরিকা এই চেষ্টায় আছে যে যেভাবেই হোক মুসলমানদের ধ্বংস করে দেবে এবং মুসলমানরা যেন নিজেদের মধ্যে লড়াই করে তাদের শক্তি শেষ করে ফেলে। এখন আমাদের বেশি বেশি দোয়া করা দরকার যে হে আল্লাহ! আমাদের হাতে তো কিছুই নেই। আমরা শুধু আপনার দরবারে এই আবেদন করতে পারি হে আল্লাহ! আপনার রহমতের মাধ্যমে আমাদের এই ফিতনা থেকে বের করে দিন এবং উম্মতে মুসলিমার ঐক্যের যে স্বপ্ন আছে, হে আল্লাহ, তা বাস্তবতা দান করুন। পুরো মুসলিম উম্মাহ যদি এক হয়ে যায়, তাহলে না আমেরিকা, না ইসরাইল, না ভারত, না অন্য কোনো শত্রু কেউই আমাদের কিছু করতে পারবে না।