২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাজনীতি

জনগণ মেনে নিলে যে কারো রাজনীতি করার অধিকার আছে : আ’লীগ প্রসঙ্গে তারেক রহমান

জনগণ মেনে নিলে যে কারো রাজনীতি করার অধিকার আছে : আ’লীগ প্রসঙ্গে তারেক রহমান

সরকার গঠন করতে পারলে শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেছেন, যদি জনগণ কাউকে মেনে নেয়, যদি মানুষ তাদের স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার সুযোগ আছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন কথাই বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপিকে নির্বাচনের পর ঐক্য সরকার গঠনের যে প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু, এতে রাজি নন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার বিশ্বাস, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিজেই পর্যাপ্ত আসনে জিতবে।   

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থাটিকে তিনি বলেন, আমার রাজনৈতিক বিরোধী দলের সঙ্গে কীভাবে আমি ঐক্য সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?

তারেক রহমান বলেন, আমি জানি না তারা (জামায়াতে ইসলামী) কত আসনে জিতবে। যদি তারা বিরোধী দলের অবস্থানে থাকে, আমি তাদের ভালো বিরোধী দল হিসেবে আশা করব।

বিএনপির চেয়ারম্যানের সহযোগীরা জানিয়েছেন, তাদের বিশ্বাস এবারের নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হবে। সংসদে ৩০০ আসন থাকলেও বিএনপি তার নিজস্ব প্রার্থী দিয়েছে ২৯২টি আসনে। বাকিগুলো দেওয়া হয়েছে জোটের অন্যান্য দলগুলোকে।

তবে, তারেক রহমান নিজে কোনো সংখ্যার কথা উল্লেখ করেননি। তিনি রয়টার্সকে শুধু বলেছেন, আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে, আমরা সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসনে জয়ী হবো।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে নির্বাচন শেষে জামায়াত বিএনপিকে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। ২০২৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনের সময় দেশের তৈরি পোশাক খাত বড় ধরনের ধাক্কা হয়েছে। সেটি থেকে উত্তরণের জন্য সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসন পেলে সবাইকে নিয়ে সরকার গঠনের আগ্রহ দেখিয়েছে দলটি।

তারেক রহমানকে রয়টার্স প্রশ্ন করেছিল, যদি তার দল জয়ী হয় তাহলে তারা ভারত থেকে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না।

জবাবে তিনি বলেন, যদি আমরা সরকারে থাকি, আমাদের তরুণদের চাকরি দিতে হবে। দেশে আমাদের ব্যবসা আনতে হবে, যেন তাদের চাকরির সুযোগ তৈরি হয় এবং মানুষ ভালো জীবনযাপন করতে পারেন। তাই, বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে, যাদের প্রস্তাব আমাদের জনগণ ও দেশের জন্য উপযুক্ত হবে, আমরা তাদের সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব করব। আলাদা কোনো দেশের সঙ্গে নয়।

এছাড়া, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা যতক্ষণ নিশ্চিত না হবে ততক্ষণ তারা বাংলাদেশে থাকতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।