আবাসন সংস্কারে পিছিয়ে লিসবন; অপেক্ষায় হাজারো বাড়ি

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে আবাসন সংকটের মধ্যে প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না বাড়িঘর সংস্কারের কাজ। সংস্কারের জন্য চিহ্নিত পৌরসভার প্রায় অর্ধেক বাড়ির কাজ শেষ হয়েছে। এখনো হাজারো বাড়ি সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছে।

লিসবন সিটি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে এমন ১৪ হাজার ৩৮৩টি বাড়ির মধ্যে এ পর্যন্ত ৭ হাজার ২০১টির সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে।

সম্পন্ন এসব কাজে ব্যয়যোগ্য বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২৯ কোটি ৯০ লাখ ইউরো। ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলমান ৮০ কোটি ইউরোর বৃহত্তর আবাসন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব কাজ করা হচ্ছে।

তবে সংস্কারের জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিহ্নিত বাড়িগুলোর মধ্যে ১০ হাজার ৭৮৯টির জন্য অর্থায়নের আবেদন করা হয়েছিল, যা মোট বাড়ির প্রায় ৭৫ শতাংশ। ফলে গত জুনের শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৬০০টি বাড়ির জন্য কোনো আবেদন করা হয়নি অথবা পর্তুগালের পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীলতা পরিকল্পনার আওতায় অনুমোদিত অর্থায়ন পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব অর্থায়নেও চলছে সংস্কার :

লিসবন সিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, ইউরোপীয় তহবিল, পর্তুগালের ‘১.º Direito’ আবাসন কর্মসূচি এবং পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে আরও ৩ হাজার ৫০০টির বেশি বাড়ির সংস্কার ও নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে। তবে বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন বাড়ি বরাদ্দ দেওয়ার গতিও কমেছে।

কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত বিভিন্ন আবাসন কর্মসূচির আওতায় ২৫৩টি বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ মেয়র কার্লোস মোয়েদাসের দুই মেয়াদে বছরে গড়ে ৬৮৭টি বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

তরুণদের জন্য নেওয়া একটি বিশেষ কর্মসূচিতেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না। ৩৫ বছর বা তার কম বয়সীদের জন্য চালু ‘দে ভোলতা আও বাইরো’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৬ সালে ১২০টি বাড়ি বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এখন কাউন্সিল আশা করছে, এ বছর মাত্র ৬৩টি বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হবে।

লিসবনজুড়ে বাড়িঘর সংস্কারের কাজ চললেও এসব পরিসংখ্যানে শহরের আবাসনসংকট মোকাবিলার পরিকল্পনা এবং বাস্তবে বাসিন্দাদের জন্য বাড়ি নিশ্চিত করার মধ্যে ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সূত্র : দ্য পর্তুগাল নিউজ

Home R3