সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬’ কুরআন ও সুন্নাহর বিধানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে তা অবিলম্বে সংশোধনের দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, মুসলিমপ্রধান দেশে ইসলামি শরিয়াহবিরোধী কোনো আইন মেনে নেওয়া হবে না। নতুন এই আইনের ফলে মুসলমানদের ‘হেবা’ (দান) ও উত্তরাধিকারীদের অধিকার সুরক্ষায় তীব্র আইনি জটিলতা তৈরি হবে।
রাজধানী ঢাকায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এসব কথা বলা হয়। সভায় শরিয়াহ বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি করে জাতীয় সংসদে বিলটি পাস করায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ প্রকাশ করা হয়।
সভায় হেফাজত নেতারা বলেন, রাষ্ট্রের আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক ক্ষমতাকে তাঁরা অস্বীকার করেন না। তবে মুসলিম নাগরিকদের ব্যক্তিগত আইন ও ধর্মীয় স্পর্শকাতর বিষয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আলেম-ওলামা এবং ইসলামি আইনজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য ছিল। পবিত্র কুরআনের সুস্পষ্ট আইনি কাঠামোকে পাশ কাটিয়ে আইন রচনা শরিয়াহকে অবজ্ঞার শামিল।
আইনমন্ত্রী ও চিফ হুইপের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে নেতারা জানান, আলেম-ওলামাদের অবস্থানকে তাচ্ছিল্য না করে দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় আচরণ হিসেবে তাঁদের আপত্তির শরিয়াহগত ভিত্তি যাচাই করা উচিত। মুসলিম উত্তরাধিকারীদের অধিকার রক্ষা ও হেবা প্রথা সুরক্ষায় এ বিতর্কিত বিধানগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
আইনটি সংশোধনের দাবিতে আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর নেতৃত্বে হেফাজত নেতা ও শীর্ষস্থানীয় ইসলামি ফিকাহ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাৎ করবেন বলে সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মধুপুরের পীর মাওলানা আব্দুল হামিদ, মাওলানা শায়খ সাজিদুর রহমান, মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মুফতী জসিম উদ্দিন হাটহাজারী, মুফতী আরশাদ রহমানী, মাওলানা আব্দুল আউয়াল নারায়ণগঞ্জ, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতী মনির হোসাইন কাসেমী, মুফতী সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, মাওলানা ইকরাম হুসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা খুবাইব বিন তৈয়ব, মুফতী বশিরুল্লাহ, মুফতী কেফায়েত উল্লাহ আজহারী, মাওলানা সালাহউদ্দিন এবং মুফতী এনামুল হক কাসেমী।