পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা ও বাড়িঘর অবরোধকারী উগ্রপন্থি ইহুদি দখলদারদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ার আগের অবস্থানেই দৃঢ়ভাবে অটল রয়েছেন ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইসরাইলের চ্যানেল ১২ নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
গত সপ্তাহে পশ্চিম তীরের কুসরা গ্রামে ফিলিস্তিনিদের কয়েকটি বাড়ি অবরোধকারী উগ্রপন্থিদের ‘ইসরাইলি সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন হাকাবি। ওই বাড়িগুলোতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অবরোধ চালিয়ে আসছে উগ্রপন্থিরা, যার স্পষ্ট উদ্দেশ্য হলো বাসিন্দাদের ভীতি প্রদর্শন করে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা। অবরুদ্ধদের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন। ইসরাইলি সেনাবাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিলেও, উগ্রপন্থিরা বারবার সেখানে ফিরে আসছে।
সাক্ষাৎকারে হাকাবি বলেন, ‘অনেকে আমাকে তিরস্কার করে বলেছেন, এটা তো সন্ত্রাসবাদ নয়।’ এর জবাবে সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যখন এমন কোনো কাজ করা হয় যা মানুষের আচরণে পরিবর্তন আনে এবং তাদের জীবনকে শঙ্কিত করে তোলে, যখন কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে মানুষের ওপর কিছু করা হয়—তা কোনো জাতির ওপর হোক কিংবা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা পরিবারের ওপর হোক—যার ফলে তারা জীবনযাপন করতে ভয় পায়, সেটাই সন্ত্রাস।’
মার্কিন রাষ্ট্রদূত জোর দিয়ে বলেন, এই অপরাধীরা ইসরাইলের একটি ‘সংখ্যালঘু গোষ্ঠী’ থেকে এসেছে এবং তাদের অনেকেই পশ্চিম তীরের বাইরে বসবাস করে। তাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা বসতি স্থাপনকারী নয়, বরং উচ্ছেদকারী। তারা সেখানে বিশৃঙ্খলা করতে এসেছে এবং তারা ইসরাইল ও ইহুদি জনগণের ক্ষতি করছে।’
কুসরা অবরোধের ঘটনায় মার্কিন দূতাবাসের সম্পৃক্ততা নিয়ে হাকাবি স্পষ্ট করেন যে, যদি কোনো মার্কিন নাগরিক জড়িত না থাকে, তবে তাদের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা থাকে না। ‘কিন্তু যখনই কোনো মার্কিন নাগরিক জড়িত হন, তখন আমাদের সম্পৃক্ততা প্রায় স্বয়ংক্রিয় এবং তা তাৎপর্যপূর্ণ হবে, কারণ এটাই আমাদের কাজ,’ যোগ করেন তিনি।
ফিলিস্তিনি-আমেরিকান লুই রিদির বাড়িটি কুসরা গ্রামে অবরোধের শিকার হয়েছে। এই ঘটনায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে প্রকাশ্যে নিন্দা জানানোর জন্য চাপ দেওয়া সত্ত্বেও তিনি তা না করায় হাকাবি হতাশ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা দায়িত্বশীল পদক্ষেপ চাই। আমরা চাই, যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছে, তাদের সবাইকে যেন কঠোর পরিণতির সম্মুখীন হতে হয়।’
একই সাক্ষাৎকারে গাজার জন্য মার্কিন-সমর্থিত পরিকল্পনার পরবর্তী পর্যায় নিয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে মতবিরোধের খবরও অস্বীকার করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।