২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুদ্ধবিরতির মার্কিন প্রস্তাব নাকচ, বৃহত্তর যুদ্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। প্রস্তাবে ভবিষ্যৎ আগ্রাসন বন্ধের কার্যকর নিশ্চয়তা না থাকায় তেহরান এটি গ্রহণ করেনি বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাব ইরাকে মাধ্যমে তেহরানে পৌঁছে দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি। তবে ইরানি কর্মকর্তারা জানান, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ এবং অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ইতিহাসের কারণে এই প্রস্তাব যথেষ্ট নয়।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৮ সালে যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া তাদের আস্থাহীনতার অন্যতম কারণ। তাদের অভিযোগ, ওয়াশিংটন কূটনৈতিক আশ্বাসের পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ অব্যাহত রেখেছে, যা ‘দ্বিমুখী নীতি’র প্রমাণ।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি তেহরান সফরে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ঘালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “সমস্যা বার্তা পৌঁছানো নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি—যা অযৌক্তিক, লোভী এবং আধিপত্যবাদী।”

এদিকে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের রেলপথ, বিমানবন্দর, সেতু ও সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর জবাবে ইরান পশ্চিম এশিয়াজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

ইরান সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে তারা সামরিক প্রতিক্রিয়া বিস্তৃত করতে পারে। সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে তেল আবিবে হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালি বন্ধ করার বিষয়ও থাকতে পারে।

এছাড়া, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করলে বৃহত্তর যুদ্ধের জন্য দেশটির সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা।

এদিকে তেহরানের আজাদি স্কয়ারে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে হাজারো মানুষ দেশটির নেতৃত্ব ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি সমর্থন জানান। সেখানে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী সামরিক যান প্রদর্শন করা হয়।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

Home R3