গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্যরামচন্দ্রপুর(কোমরপুর) গ্রামে অবস্থিত শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির প্রাঙ্গণে ২৮ ফুট উচ্চতার শিবমূর্তি এবং ৫৩ ফুট উচ্চতার কৃষ্ণমূর্তি নির্মাণের প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ বুধবার (১০ জুন) বাদ যোহর অনুষ্ঠিত খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মজলিসে আমেলার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী।
তিনি বলেন, খেলাফত আন্দোলন কোন জোটে নেই। বিগত নির্বাচনে খেলাফত আন্দোলন এককভাবেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। নির্বাচনের পূর্বে জুলাই শহীদ ও শাপলা শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন ও গণহত্যার বিচারসহ কয়েকটি দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে ছিল খেলাফত আন্দোলন। নির্বাচনী সমঝোতা না হওয়ায় কোন জোটে খেলাফত আন্দোলন অংশগ্রহণ করে নাই। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নাম ১১ দলীয় জোটে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী কালেমা বিশ্বাসী সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসলাম মুসলমান ও দেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। একদিকে ভারতে মুসলমানদের মসজিদ ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে, মুসলিমদের নির্যাতন করা হচ্ছে, ভারতীয়দের বাংলাদেশে পুশইন করা হচ্ছে, অপরদিকে বাংলাদেশর গাইবান্ধায় প্রকাশ্যে বিশালাকৃতির শিবমূর্তি স্থাপন করে দেশে অশান্তি সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র চলছে। দেশ ও ইসলাম রক্ষায় দল মত নির্বিশেষে কালিমায় বিশ্বাসী সকলের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।
বৈঠকে নেতৃবৃন্দ বলেন, নতুন করে এই সরকারও সংগীত ও নৃত্য শিক্ষাঙ্গনে অন্তর্ভুক্তি করার ষড়যন্ত্র করছে, যুবক ও তরুণ সমাজকে ধর্মহীনতা ও নাস্তিকতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, দেশের ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতা কিছুতেই তা বরদাশত করবে না। এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে তাওহীদি জনতাকে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির মাওলানা সাইদুর রহমান, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মীর ইদ্রিস, হাজী জালাল উদ্দিন বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন, মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী, মাওলানা সাজিদুর রহমান ফয়েজী, মুফতি ইলিয়াস মাদারীপুরী, মাওলানা আশরাফুজ্জমান পাহাড় পুরী, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মুফতি আব্দুল বারী,হাজী শাহজাহান,মুফতি কামরুল ইসলাম, মৌলভী আব্দুর রকীব, মুফতি আখতারুজ্জামান আশরাফী, মুফতি আবুল হাসান কাসেমী, মাওলানা সালাহউদ্দিন জয়নাল, মুফতি কারী সিদ্দিকুর রহমান, মুফতি আলামিন, আতিকুর রহমান প্রমুখ।