৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জাতীয়

বিদ্যুৎ, তেল-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও সীমান্তে পুশইনের প্রতিবাদে বায়তুল মুকাররমে বিক্ষোভ

বিদ্যুৎ, তেল-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও সীমান্তে পুশইনের প্রতিবাদে বায়তুল মুকাররমে বিক্ষোভ

বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং সীমান্তে পুশইনের প্রতিবাদে আজ রবিবার (৭ জুন) বাদ আসর বায়তুল মুকাররম উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ঢাকা মহানগর।

মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, নির্বাচনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণ এমনিতেই দিশেহারা। এর ওপর বারবার জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি জনগণের ওপর নতুন বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার যদি বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস খাতে দুর্নীতি, অপচয় ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারে, তাহলে জনগণের ওপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানোর প্রয়োজন হবে না। অথচ সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, খুন ও ধর্ষণের মতো ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ আরও বলেন, ইতিহাস সাক্ষী—জনগণের কণ্ঠস্বর উপেক্ষা করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারেনি। তাই জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে খেটে খাওয়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তিনি সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের পুশইন ও হয়রানির ঘটনাকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে সীমান্ত এলাকার জনগণ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর পেশাদারিত্ব প্রশংসার দাবিদার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে সরকারকে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসাইন রাজীর সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রাকীবুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা কুরবান আলী কাসেম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক মুসা, মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জহিরুল ইসলাম, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাইদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা সানাউল্লাহ আমিনী, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুর্শিদ সিদ্দিকী, যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা মামুনুর রশিদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা ওবাইদুর রহমান নদভী, গাজীপুর মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক কাজী নিজাম উদ্দিন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি মাওলানা আবুল কাশেম মিয়াজী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ নাটোরী, অফিস সম্পাদক জনাব এইচ এম খোকন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি মুফতি আতিকুল্লাহ, মাওলানা ইমদাদ আশরাফ এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা কাজী সালেহ উদ্দিন।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মুকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

Home R3