যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে রাজ্য পর্যায়ের উচ্চ পদে ফিলিস্তিনি-আমেরিকানদের সংখ্যা এখন পর্যন্ত অত্যন্ত সীমিত হলেও সেই তালিকায় যুক্ত হওয়ার পথে রয়েছেন আবের কাওয়াস। নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স বরোর বাসিন্দা এবং ডেমোক্রেটিক সোশালিস্ট এই নারী আগামী ২৩ জুন সিনেট ডিস্ট্রিক্ট–১২ আসনের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফিলিপিনো-আমেরিকান অ্যাসেম্বলিম্যান স্টিভেন রাগা। প্রাইমারিতে বিজয়ী প্রার্থী আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন। সেখানে জয়ী হলে আগামী জানুয়ারিতে নিউইয়র্কের রাজধানী অলবানিতে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
স্টিভেন রাগা পূর্বে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির নির্বাচনী প্রচারণাকে সমর্থন করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই মামদানি নিজেই আবের কাওয়াসকে সমর্থন জানিয়েছেন।
কাওয়াস বলেন, প্রগতিশীল আন্দোলন তরুণদের মধ্যে নতুন আশা তৈরি করেছে এবং সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তারা পরিবর্তনের ধারাকে এগিয়ে নিতে চান।
তিনি একজন ফিলিস্তিনি অভিবাসী, যিনি নিজ মাতৃভূমি থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার অভিজ্ঞতা বহন করেন। তার রাজনৈতিক অবস্থানের কেন্দ্রে রয়েছে অভিবাসন অধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার।
তার জীবনের অভিজ্ঞতায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ১১ সেপ্টেম্বরের পর মুসলিমদের ওপর দমন-পীড়ন, পরিবারের সদস্যদের ইমিগ্রেশন আটক ও বিচ্ছিন্নতার মতো ঘটনা। এসব অভিজ্ঞতাই তাকে রাজনীতিতে আসতে অনুপ্রাণিত করেছে বলে তিনি জানান।
কাওয়াসের নির্বাচনী এলাকায় কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া, লং আইল্যান্ড সিটি এবং সানিউডসহ বৈচিত্র্যময় অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইতোমধ্যে তার প্রার্থিতাকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ডানপন্থী কিছু গণমাধ্যম তার পূর্ববর্তী মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে সামনে এনে সমালোচনা করছে। তবে কাওয়াস বলেন, তার মূল কাজ অভিবাসী অধিকার, ভাষা সহায়তা এবং পুলিশ সংস্কার নিয়ে মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা।
বর্তমানে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম-আমেরিকানদের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
অর্থ সংগ্রহে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকলেও কাওয়াস ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ হাজার ডলার সংগ্রহ করেছেন। তার পক্ষে মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তলাইবসহ প্রগতিশীল নেতারা সমর্থন জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল রাজনীতিতে নতুন ধারার ইঙ্গিত বহন করছে।