পর্তুগালের বহুল আলোচিত নতুন নাগরিকত্ব আইন নিয়ে দীর্ঘদিনের অস্পষ্টতা ও উদ্বেগের অবসান ঘটিয়েছে দেশটির সরকারি সংস্থা ইনস্টিটিউট অফ রেজিস্ট্রিজ অ্যান্ড নোটারিজ।
সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে, আইনের সংশোধিত ও নতুন নিয়মগুলো কেবল সেই সব আবেদনের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে যেগুলো আইনটি অনুমোদিত হওয়ার পর জমা দেওয়া হয়েছে। ফলে ইতিমধ্যে যারা নাগরিকত্বের অপেক্ষায় আছেন, তাদের আবেদনের ওপর নতুন নিয়মের কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
এই ঘোষণার ফলে কয়েক হাজার প্রবাসী আবেদনকারীর মধ্যে ফিরেছে স্বস্তি।
আইআরএন-এর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, প্রতিটি নাগরিকত্বের আবেদন কোন আইনের অধীনে বিচার করা হবে তা নির্ধারণ করা হবে আবেদন জমার তারিখ অনুযায়ী। অর্থাৎ, যারা নতুন আইন অনুমোদনের আগেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বা পুরানো আইনের শর্তাবলী ও বসবাসের সময়সীমা বহাল থাকবে। কেবল নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর যারা আবেদন করছেন বা করবেন, তাদের ক্ষেত্রেই বর্ধিত সময়সীমা বা অন্যান্য সংশোধিত নিয়মগুলো প্রযোজ্য হবে।
পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও হোসে সেগুরো এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, চলমান বা পেন্ডিং প্রসেসগুলো যেন আইনি পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তাঁর মতে, আবেদনের মাঝপথে নিয়ম বদলে দিলে রাষ্ট্রের প্রতি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
দীর্ঘ সময় ধরে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের মনে একটি আতঙ্ক ছিল যে, নতুন শর্তের কারণে হয়তো তাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। তবে আইআরএন-এর এই বার্তার পর এটি নিশ্চিত হলো যে, তারা তাদের আবেদন করার সময়ের তৎকালীন আইন অনুযায়ীই নাগরিকত্ব লাভ করবেন। মূলত প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং আইনি স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্তুগাল সরকার।