৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পর্তুগালের নাগরিকত্ব আইনে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন

পর্তুগালের প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি আন্তোনিও হোসে সেগুরো জাতীয়তা আইন সংশোধন সংক্রান্ত একটি সংসদীয় অধ্যাদেশ জারি করেছেন, যদিও তিনি এ বিষয়ে “বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐকমত্যের” প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির দপ্তরের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, এই আইনটি যেন সাময়িক রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত প্রভাবের বাইরে থেকে দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রিক স্বার্থ বিবেচনায় প্রণীত হয়—এটাই ছিল তাঁর প্রত্যাশা।

রাষ্ট্রপতি স্পষ্ট করেছেন যে, নাগরিকত্ব অর্জনের শর্ত কঠোর করা হলেও তা যেন মানবিক দিক থেকে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে। বিশেষ করে, পর্তুগালে বৈধভাবে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার অধিকার যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এর আগে, একই বিষয়ে প্রথম খসড়া আইনটি সাংবিধানিক আদালত অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। পরবর্তীতে সংশোধিত সংস্করণটি গত ১ এপ্রিল সংসদে অনুমোদিত হয়। এই অনুমোদন দেয় সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (পিএসডি), চেগা, লিবারেল ইনিশিয়েটিভ (আইএল) এবং সেন্টার ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যাল পার্টি (সিডিএস-পিপি)। অন্যদিকে, সোশ্যালিস্ট পার্টি (পিএস), লিভ্রে, কমিউনিস্ট পার্টি (পিসিপি), বাম ব্লক (বিই) এবং পিপল-অ্যানিমালস-নেচার (প্যান) এর বিরোধিতা করে।

রাষ্ট্রপতি আরও সতর্ক করে বলেছেন, এই আইনের ফলে চলমান বিচারাধীন মামলাগুলোর ওপর কোনো প্রভাব পড়া উচিত নয়। তাঁর মতে, এমন কিছু ঘটলে তা রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট করতে পারে।

আইনের প্রধান পরিবর্তনসমূহ

সংশোধিত জাতীয়তা আইনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে

নাগরিকত্ব পাওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি:

পূর্বে যেখানে বৈধভাবে বসবাসের ৫ বছর পর নাগরিকত্বের আবেদন করা যেত, তা এখন বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়েছে।

অভিবাসী শিশুদের নাগরিকত্বে পরিবর্তন:

আগে পর্তুগালে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের জন্য নাগরিকত্ব পাওয়া তুলনামূলক সহজ ছিল। এখন তাদের ক্ষেত্রে পিতামাতার দীর্ঘমেয়াদি বৈধ বসবাসের শর্ত আরও কঠোর করা হয়েছে।

যোগ্যতার মানদণ্ড কঠোরকরণ:

ভাষা, সামাজিক সংযুক্তি এবং অপরাধমূলক রেকর্ড সংক্রান্ত যাচাই আরও কঠোর করা হয়েছে।

নতুন আইন কার্যকর হলেও এটি পূর্বে চলমান (বিচারাধীন) মামলাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না এ বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই নাগরিকত্ব আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশ করার অপেক্ষায় রয়েছে। গেজেট আকারে প্রকাশ করা হলে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত তথ্য স্পষ্টভাবে জানা যাবে।

এই সংশোধনকে সরকার অভিবাসন নীতি শক্তিশালী করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, সমালোচকদের মতে এটি অভিবাসীদের জন্য নাগরিকত্ব প্রাপ্তি আরও কঠিন করে তুলবে। বিশেষ করে, দীর্ঘ সময়সীমা এবং কঠোর শর্ত নতুন প্রজন্মের সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে।

রাষ্ট্রপতির “বৃহত্তর ঐকমত্য” আহ্বান থেকে বোঝা যায়, বিষয়টি এখনো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এবং ভবিষ্যতে আরও সংশোধনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।