২৫শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পর্তুগালের শ্রমবাজারে এআই বিপ্লব; চাকরি হারানোর ভয় ৪৪ শতাংশ কর্মীর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত বিস্তার বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রকে বদলে দিচ্ছে, আর তার প্রভাব থেকে বাদ যাচ্ছে না পর্তুগালও। নতুন প্রযুক্তির সুবিধা যেমন উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে, তেমনি তৈরি করছে অনিশ্চয়তার ছায়া। সম্প্রতি ইউরোপীয় কমিশনের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহারকারী প্রতি পাঁচজনের মধ্যে দুইজনই আশঙ্কা করছেন, এই প্রযুক্তিই একসময় তাদের চাকরির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে এআইকে ঘিরে একদিকে যেমন বাড়ছে আগ্রহ ও নির্ভরতা, অন্যদিকে তেমনি সাধারণ মানুষের মনে জন্ম নিচ্ছে দুশ্চিন্তা, দ্বিধা আর মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

বিশ্বখ্যাত জনশক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ম্যানপাওয়ারগ্রুপের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, বর্তমানে কর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের এক ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৮৯ শতাংশ পর্তুগিজ কর্মী তাদের বর্তমান দায়িত্ব পালনের সামর্থ্যের ওপর আস্থাশীল। তবে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা তাদের আছে কি না এমন প্রশ্নে আত্মবিশ্বাসের হার কমে দাঁড়ায় মাত্র ৬৪ শতাংশে। অর্থাৎ, আগামী দিনে প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ২৫ শতাংশ কর্মীর মনেই সংশয় রয়েছে।

ম্যানপাওয়ারগ্রুপের বিশেষজ্ঞ নুনো ফেরো এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, “কর্মীদের এখনই খুব বেশি উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে বর্তমান রূপান্তর সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।” তিনি মনে করেন, যন্ত্র দ্বারা সরাসরি চাকরি প্রতিস্থাপনের মতো চরম নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরির কোনো স্পষ্ট তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি হলো ‘অভিযোজন’। কর্মীদের কর্মক্ষম রাখতে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ এবং নতুন জ্ঞান অর্জনের কৌশল বা ‘আপস্কিলিং’ এখন সময়ের দাবি।

গবেষণাটির শেষে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চূড়ান্ত প্রভাব প্রযুক্তির ক্ষমতার চেয়েও বড় হয়ে উঠবে এর সামাজিক ও পেশাদার প্রয়োগের ওপর। এআই কীভাবে সমাজ ও কর্মক্ষেত্রের সাথে সমন্বিত হবে, তার ওপরই নির্ভর করবে আগামীর কর্মসংস্থান কতটা সুরক্ষিত থাকবে।

Home R3