৪ঠা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চীনের মধ্যস্থতায় আফগানিস্তান-পাকিস্তান সংলাপে অগ্রগতি

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান আলোচনা ধারাবাহিকভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে চীন। ২০২১ সালে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া সবচেয়ে গুরুতর উত্তেজনা প্রশমনে এই সংলাপ চলমান রয়েছে।

শুক্রবার নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান উভয় পক্ষই বেইজিংয়ের মধ্যস্থতাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং তারা পুনরায় সংলাপে ফিরতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, এটি একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। একই সঙ্গে তিনি জানান, চীন দুই সরকারের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

আফগানিস্তান ও পাকিস্তান উভয় দেশের সঙ্গেই সীমান্ত রয়েছে এমন চীন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়িয়েছে। এর মধ্যে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মার্চ মাসে চীনের একজন বিশেষ দূতের সফরও ছিল। এর আগে উরুমকিতে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সর্বশেষ বৈঠক কোথায় হয়েছে, তা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেননি।

চীন নিজেকে সংলাপ-সহায়ক পক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। দেশটি আলোচনার উপযোগী পরিবেশ তৈরি এবং আলোচনার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম দিতে কাজ করছে। মাও নিং বলেন, এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে তিন দেশ যৌথভাবে প্রকাশ করবে।

গত অক্টোবর থেকে আফগান ও পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষেই কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে। এ সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হয়েছেন আফগান বেসামরিক নাগরিকরা। ইসলামাবাদ কাবুলের বিরুদ্ধে সীমান্তপারের হামলার জন্য দায়ী যোদ্ধাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। তবে আফগান কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, সশস্ত্র তৎপরতা পাকিস্তানের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সমস্যা।

চীনের মধ্যস্থতায় নতুন করে শুরু হওয়া এই কূটনৈতিক তৎপরতা সতর্ক আশাবাদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ধারাবাহিক সংলাপ বজায় থাকলে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমে আসতে পারে।

সূত্র : আরিয়ানা নিউজ