বগুড়া মহানগরীর চারমাথা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বিপুল চন্দ্র পালের (৫০) অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ও নানা ধরনের সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বিপুল চন্দ্র পাল বোরকা পরিহিত এক নারীর সঙ্গে ‘সেঞ্চুরি মোটেল’ নামে ওই আবাসিক হোটেলে প্রবেশ করেন। সিসিটিভি ফুটেজে তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। পরে তিনি হোটেলের ৬১০ নম্বর কক্ষে ওঠেন।
পরদিন শনিবার দুপুরে রুম পরিষ্কার করতে গিয়ে হোটেল কর্মচারীরা সাড়া না পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে সদর থানা পুলিশ ও স্থানীয় ফাঁড়ির সদস্যরা ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে কক্ষের দরজা খুলে বিছানায় তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
ঘটনাস্থল থেকে যৌন উত্তেজক সিরাপ, ঘুমের ট্যাবলেট, কোমল পানীয় ও পানির বোতল উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, এসব ওষুধ সেবনের পর শারীরিক জটিলতায় তার মৃত্যু হতে পারে।
সেঞ্চুরি মোটেলের ব্যবস্থাপক এনামুল হক প্রথমে দাবি করেন, নিহত ব্যক্তি একাই কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন মোড় নেয় তদন্ত।
অন্যদিকে নিহতের স্ত্রী লিপি রানী পাল দাবি করেছেন, সারিয়াকান্দির রক্সি নামের এক ব্যক্তি তার স্বামীকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তিনি এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
নিহতের মেয়ে তিথি রানী পাল দাবি করেন, ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে হোটেল কর্তৃপক্ষ মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে। তার মতে, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।
স্থানীয়রা জানান, হোটেলটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নারীসহ অবস্থান ও ওষুধ সেবনের কারণে এ মৃত্যু ঘটতে পারে। তবে পরিবার অভিযোগ করলে মামলা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।