৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী আচরণের কারণে শান্তি আলোচনা এগোচ্ছে না: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী আচরণের কারণে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা এগোচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তনশীল ও পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং বারবার শর্ত পরিবর্তনের কারণে দুই দেশের চলমান আলোচনা বর্তমানে অচলাবস্থায় রয়েছে। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত আছে।

রোববার (৭ জুন) তেহরানে সিএনএন-এর সিনিয়র আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক ফ্রেডেরিক প্লেইটজেনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ থাকলেও আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি।

ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের প্রধান সমস্যা হলো তাদের অবস্থান বারবার পরিবর্তন হয় এবং লক্ষ্যও পরিবর্তিত হয়। বিভিন্ন কর্মকর্তার পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে পুরো প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে এখনো মতবিরোধ রয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অপ্রসারণ চুক্তির আওতায় শান্তিপূর্ণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার যুক্তরাষ্ট্রকে স্বীকার করতে হবে।

ইরানি মুখপাত্র যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ শর্তহীনভাবে ফেরত দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তার মতে, এটি কোনো ছাড় নয়, বরং ইরানের ন্যায্য অধিকার।

তিনি বলেন, “আটকে থাকা সম্পদের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না—কেবল ইরানি সম্পদ মুক্ত করতে হবে।”

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র তেল রাজস্ব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ এবং বাণিজ্যিক সম্পদসহ ইরানের বিপুল অর্থ বিদেশে আটকে রেখেছে বলে দাবি করে তেহরান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সম্পদ নির্বাহী আদেশ ও রাজনৈতিক চাপের মাধ্যমে জব্দ করা হয়েছে।

ফিন্যান্সিয়াল সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পুনর্গঠনে এসব অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে অতীতের ক্ষয়ক্ষতি পূরণেও এই তহবিল ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা এবং ইরানের সম্পদ অবিলম্বে মুক্ত করা।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এপ্রিল মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাঘায়ি বর্তমান পরিস্থিতিকে “অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও বিপজ্জনক” বলে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এই সংকটের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের “বেপরোয়া নীতি” দায়ী।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যে কোনো হামলার কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত।

তবে উত্তেজনা সত্ত্বেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে, যা কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রোববার তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনেয়ীর উদ্দেশে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের একটি বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেন।

সূত্র: প্রেস টিভি

Home R3