মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ইন মালয়েশিয়া ২০২৬’। ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন মালয়েশিয়া (ডুয়াম) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসে শিক্ষা, গবেষণা, নেতৃত্ব, নারী ক্ষমতায়ন ও কমিউনিটি উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ২৪ জন বাংলাদেশিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
শনিবার (৬ জুন) এসএসইউ ক্লাব আমানে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্জন ও সাফল্যকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা হয়।
আয়োজকদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ইতিবাচক অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী। তিনি অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশিদের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করছে।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য দেন ডুয়ামের সভাপতি ও ইভেন্ট অর্গানাইজিং কমিটির আহ্বায়ক সুরাইয়া ইয়াসমিন নাহার। তিনি বলেন, প্রবাসে বাংলাদেশিরা শিক্ষা, গবেষণা ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, আর তাদের এ অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এই আয়োজন।
কমিটির সদস্য সচিব ও ডুয়ামের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী আকাশ অ্যাওয়ার্ড নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়েছে।
এবার মোট ২৪ জনকে চারটি ক্যাটাগরিতে সম্মাননা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ‘অ্যাকাডেমিক এক্সিলেন্স’ বিভাগে ৯ জন শিক্ষক ও গবেষক, ‘স্টুডেন্ট এক্সিলেন্স’ বিভাগে ৯ জন শিক্ষার্থী, ‘উইমেন এম্পাওয়ারমেন্ট’ বিভাগে ৪ জন নারী নেত্রী এবং ‘কমিউনিটি এনগেজমেন্ট’ বিভাগে ২ জন কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব পুরস্কৃত হন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহ। তিনি এ ধরনের আয়োজনকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অনুপ্রেরণার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়া ও বিভিন্ন দেশের শিক্ষক, গবেষক, সাংবাদিকসহ প্রায় ১২টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, র্যাফেল ড্র এবং নেটওয়ার্কিং সেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই পুরস্কার প্রবাসী বাংলাদেশিদের মেধা ও অবদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির একটি মর্যাদাপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হবে।