১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মসজিদ নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক : পর্তু মেয়রের বক্তব্যে উদ্বেগ মুসলিমদের

পর্তুগালের পর্তু শহরে বাংলাদেশি কমিউনিটির ব্যবহৃত হজরত হামজা মসজিদকে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান স্থান ছাড়তে হবে। ভবনটির নতুন মালিক লিভরারিয়া লেলোর সহযোগী প্রতিষ্ঠান লেলো ভিতরিয়া, লিভ্রো ই তুরিজমো এলডিএ মসজিদের ভাড়া চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে মসজিদটি পর্তু শহরে বসবাসরত বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রতিদিন শত শত মুসল্লি এখানে নামাজ আদায় করেন। আর জুমার দিনে উপস্থিতির সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনে পৌঁছে।

এদিকে পর্তু সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগের নির্বাহী কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় কমিউনিটিকে দেওয়ার কথা বিবেচনা করেছিল এমন দুটি পরিত্যক্ত ভবন বর্তমান প্রশাসন নিলামে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিটি হলের ভাষ্য অনুযায়ী, “শহরে মসজিদ নির্মাণ অগ্রাধিকার নয়” এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোরও অন্যদের মতো সমানভাবে ওই সম্পত্তি কেনার সুযোগ রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের এই অবস্থান মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তাদের মতে, ধর্মচর্চার স্থানকে “অগ্রাধিকার নয়” হিসেবে উপস্থাপন করা হলে তা ধর্মীয় অধিকার ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নকে দুর্বল করতে পারে।

পর্তুগালের সংবিধান অনুযায়ী ধর্মচর্চা, উপাসনা এবং ধর্মীয় সংগঠন পরিচালনার স্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার। সংবিধানের ৪১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কাউকে নিপীড়ন, বঞ্চনা বা কোনো ধরনের বাধার মুখে ফেলা যাবে না। ফলে মসজিদ-সংক্রান্ত যেকোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমতা এবং বৈষম্যহীনতার নীতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

মিউনিসিপ্যালিটির সর্বশেষ অবস্থান অনুযায়ী, ভবনগুলোর নিলাম প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং সম্পত্তিগুলোর নতুন মূল্যায়নও চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ৩১ অক্টোবর ভাড়া চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বর্তমান স্থানটি খালি করে দিতে হবে।

বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পর্তুর সভাপতি শাহ আলম কাজল বলেন, “আগামী ৩১ অক্টোবর মসজিদের ভাড়া চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। আমরা আশা করেছিলাম স্থানীয় প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট সামাজিক পক্ষগুলো এমন একটি সমাধানে পৌঁছাবে, যাতে মুসলিমদের উপাসনার অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকে এবং একই সঙ্গে নগর ব্যবস্থাপনার প্রশ্নও আইনি ও ন্যায্য কাঠামোর ভেতরে সমাধান করা যায়।”

তিনি আরও বলেন, “তবে আমরা বিকল্প পথ খুঁজছি এবং দীর্ঘমেয়াদে মসজিদের জন্য সুবিধাসম্পন্ন একটি স্থান নির্ধারণের চেষ্টা করছি।” এ বিষয়ে তিনি সর্বস্তরের নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

মুসলিম কমিউনিটির দাবি, তারা কেবল একটি স্থায়ী, নিরাপদ ও বৈধ উপাসনাস্থল চায়। অন্যদিকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, নগর পরিকল্পনা ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, সংবেদনশীল এই ইস্যুতে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা, পরামর্শ এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে ভুল বার্তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এখন দেখার বিষয়, ৩১ অক্টোবরের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই বিকল্প ব্যবস্থা, সংলাপ অথবা প্রশাসনিক সমাধানের কোনো কার্যকর পথ তৈরি হয় কি না।

Home R3