ইতালির কাছ থেকে ৩৯০ কোটি ইউরো মূল্যের সামরিক যুদ্ধজাহাজ (ফ্রিগেট) ক্রয়ের বিষয়ে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশের জেরে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পর্তুগালের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নুনো মেলো। অনলাইন সংবাদপত্র ‘২৪ হোরাস’, দেশের উগ্র ডানপন্থী দল ‘শেগা’-এর প্রধান আন্দ্রে ভেনতুরা এবং দলটির সংসদ সদস্য পেড্রো ফ্রাজাওয়ের বিরুদ্ধে এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পর্তুগালের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এই বড় অঙ্কের কেনাকাটা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে ‘২৪ হোরাস’ নামের ওই পত্রিকা মন্ত্রণালয়ের সাথে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সত্যতা যাচাই করেনি। পরবর্তীতে অসত্য এই তথ্যটি অন্যান্য বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। একই সাথে শেগা দলের নেতারা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ‘কাল্পনিক গল্প’ বানিয়ে এই কেনাকাটা ঘিরে অহেতুক সন্দেহ ও বিভ্রান্তি তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
কেনাকাটার স্বচ্ছতা ব্যাখ্যা করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ দুই দেশের সরকারের মধ্যকার সরাসরি একটি ঋণ ও চুক্তির বিষয়। এতে কোনো বেসরকারি কোম্পানি বা মধ্যস্থতাকারী পর্তুগিজ প্রতিষ্ঠানের একদিনের জন্যও কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, মন্ত্রিপরিষদের কোনো সদস্য এই চুক্তির আলোচনা বা সইয়ে অংশ নেন না; এটি দুই দেশের প্রতিরক্ষা অস্ত্র অধিদপ্তর প্রযুক্তিগতভাবে পরিচালনা করে। সেনাসদর, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ প্রতিরক্ষা খাতের পেশাদার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি যৌথ দল সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত যোগ্যতা বিচার করে সরঞ্জাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে সরকারের কোনো মন্ত্রীর কোনো ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ ছিল না।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী নুনো মেলো জানান, শেগা দলের দুই নেতা ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক শালীনতার সব সীমা অতিক্রম করেছেন। তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে সরকারের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শরিক দল সিডিএস-এর ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের মর্যাদা হানিকর আচরণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর সুযোগ নেই। তাই এই অপপ্রচারের জবাবে পত্রিকা ও সংশ্লিষ্ট দুই রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে আদালতে আইনি লড়াই শুরু করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অনলাইনে ভুয়া তথ্য ছড়ানো নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই উগ্র ডানপন্থী দল ‘শেগা’র তীব্র সমালোচনা চলছে। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণাতেও উঠে এসেছে যে, পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার ছড়ানোই রাজনৈতিক সুবিধালাভে দলটির মূল ডিজিটাল কৌশল।