১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বৈশ্বিক পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী বাংলাদেশ ও রাশিয়া

জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিক্ষা খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে পারস্পরিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও রাশিয়া।

সোমবার (৯ জুন) মস্কোতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এ বিষয়ে আলোচনা করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে উভয় মন্ত্রী সমসাময়িক আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এটি ছিল ড. খলিলুর রহমানের প্রথম দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর।

বৈঠকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও বৈশ্বিক বিষয়ে এর কেন্দ্রীয় ভূমিকা শক্তিশালী করতে রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন।

লাভরভ বলেন, আগামী জানুয়ারিতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে বাণিজ্য, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীল রাজনৈতিক সংলাপ অব্যাহত থাকার বিষয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভের প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম বন্দর মাইনমুক্ত করতে সোভিয়েত নৌবাহিনীর সহায়তার কথা স্মরণ করেন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে দুই দেশের সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকল্পটি শিগগিরই পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জানানো হয়, জাতিসংঘসহ বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। জ্বালানি, শিক্ষা ও কারিগরি খাতে সহযোগিতাও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Home R3