পর্তুগালের পোর্তো শহরে মুসলিম কমিউনিটির অন্যতম উপাসনালয় ‘হযরত হামজা (রাঃ) জামে মসজিদ’ যে ভবনে অবস্থিত, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সেই ভবন ছাড়তে হবে। ভবনটি সম্প্রতি বিখ্যাত লিভরারিয়া লেলো গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান কিনে নিয়েছে।
২০০৩ সাল থেকে চালু থাকা এই মসজিদটি পোর্তোর বাংলাদেশি ও বৃহত্তর মুসলিম কমিউনিটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন এখানে শত শত মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। বিশেষ করে শুক্রবারে প্রায় দেড় হাজার মানুষ জুমার নামাজে অংশ নেন। স্থানীয় মুসলিমদের পাশাপাশি বহু পর্যটকও এই মসজিদে নামাজ আদায় করে থাকেন।
মসজিদ পরিচালনাকারীদের দাবি, আগের মেয়র রুই মোরেইরা তাদের অন্য একটি ভবন ব্যবহারের আশ্বাস দিয়েছিলেন এবং নিজেদের অর্থে প্রায় ৬ লাখ ইউরো ব্যয়ে ভবনটি সংস্কারের পরিকল্পনাও ছিল।
তবে প্রশাসন পরিবর্তনের পর নতুন মেয়র পেদ্রো দুয়ার্তে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য ভবন বরাদ্দ না দিয়ে সেটি নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য ভবন বরাদ্দ দেওয়া এখন শহরের অগ্রাধিকার নয়। ফলে মুসলিম কমিউনিটির জন্য বরাদ্দ হওয়ার কথা থাকা ভবনটি এখন সিটি করপোরেশন নিলামে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটি গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, তারা ভবনটি পৌরসভার নির্ধারিত মূল্যে কিনে নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন, তবে সে প্রস্তাবে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
কমিউনিটির নেতারা আশঙ্কা করছেন, নতুন কোনো স্থায়ী জায়গা না পেলে মুসল্লিদের ছোট দোকান বা গাড়ির ভেতরে নামাজ আদায় করতে হতে পারে। এতে পোর্তোর প্রায় সাত হাজার মুসলমানের ধর্মীয় কার্যক্রম বড় ধরনের সংকটে পড়বে।
অন্যদিকে, ভবনটি কিনে নেওয়া লেলো গ্রুপ জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চায় না। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে তাদের সাংস্কৃতিক প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
পর্তুগালে অভিবাসী মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এই ঘটনা নতুন করে ধর্মীয় অবকাঠামো ও উপাসনালয় সংকটের বিষয়টি সামনে এসেছে।