২০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পালিয়ে বিয়ে করায় পুলিশের সামনেই মেয়েকে মেরে ফেললেন বাবা-মা ছবি: প্রতীকী

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বান্দা জেলায় প্রেম করে বিয়ে করার জেরে থানা চত্বরে বাবা-মায়ের নৃশংস হামলায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিবানী স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তার জন্মদাতা পিতা-মাতা।

জানা গেছে, গত ১৮ মে প্রতিবেশী ললিত বর্মার সঙ্গে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যান শিবানী। পরে তারা একটি মন্দিরে বিয়ে করেন এবং আইনিভাবে সেই বিয়ে নিবন্ধনও সম্পন্ন করেন। এ ঘটনায় শিবানীর পরিবার ললিতের বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশ তাদের খোঁজে অভিযান শুরু করে।

পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধ্যপ্রদেশের সাতনা জেলা থেকে নবদম্পতিকে উদ্ধার করে বান্দা থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় শিবানী ও ললিত জানান, তারা স্বেচ্ছায় ও পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং এ সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্রও উপস্থাপন করেন।

এরপর শিবানীর বক্তব্য রেকর্ড ও ডাক্তারি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় উভয় পক্ষের পরিবারের সদস্যরা থানায় উপস্থিত হন। পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিবানীর বাবা-মা তাকে বাড়ি ফেরার জন্য চাপ দিলেও তিনি স্বামীর সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

এক পর্যায়ে কথাকাটাকাটির জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হঠাৎ করেই শিবানীর মা তাকে পেছন থেকে চেপে ধরেন এবং সেই সুযোগে তার বাবা ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় শিবানীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বান্দা জেলার পুলিশ সুপার পলাশ বানসাল জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রধান অভিযুক্ত শিবানীর বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

Home R3