২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ট্রাম্প প্রশাসনকে উপেক্ষা করে মাদুরোর পক্ষে রায় দিল নিউইয়র্ক আদালত ফাইল ছবি

মাদক পাচার মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সচল রাখতে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো-এর আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পথ সুগম করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। দীর্ঘ জটিলতার পর ওয়াশিংটন তাদের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় পরিবর্তন আনতে সম্মত হয়েছে, যাতে মাদুরোর আইনজীবীর পারিশ্রমিক পরিশোধ করা সম্ভব হয়।

গত শুক্রবার নিউইয়র্ক-এর আদালতের নথিতে এই তথ্য প্রকাশ পায়। এর আগে নিষেধাজ্ঞার কারণে তার আইনজীবী নিয়োগ ও অর্থ পরিশোধ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় মামলাটি খারিজ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস-এ এক অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস-কে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। পরে তাদের নিউইয়র্কে নিয়ে এসে নার্কো-টেরোরিজমসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। বর্তমানে তারা ব্রুকলিনের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

মাদুরোর প্রধান আইনজীবী ব্যারি পোল্যাক আদালতে যুক্তি দেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে তার ফি পরিশোধ সম্ভব না হওয়ায় আসামি তার পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি এ কারণে মামলাটি খারিজের আবেদনও করেন।

তবে ম্যানহাটনের জেলা জজ আলভিন হেলারস্টাইন মামলাটি খারিজ না করে বরং আসামির আইনি সহায়তার অধিকারকে অগ্রাধিকার দেন। তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় একজন আসামির আইনজীবী পাওয়ার অধিকার মৌলিক এবং তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

আদালতে সরকারি কৌঁসুলি কাইল উইরশবা যুক্তি দেন, ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতির অংশ। তবে বিচারক হেলারস্টাইন এ বিষয়ে নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দেন এবং শেষ পর্যন্ত প্রশাসনকে নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল করতে বাধ্য করেন।

এ প্রেক্ষাপটে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভেনেজুয়েলা সরকারকে মাদুরোর আইনি ব্যয় বহনের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। এর ফলে মামলার বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং মাদুরো তার পছন্দের আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন।

উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসনের সময় ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং ২০২০ সালে মাদক পাচারের অভিযোগে মাদুরোর বিরুদ্ধে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। সেই রাজনৈতিক উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় বর্তমান এই আইনি লড়াই চলছে।

মাদুরো শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদকে কেন্দ্র করেই এই মামলা তৈরি করা হয়েছে।

এখন আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর মাদুরোর আইনি লড়াই নতুন মোড় নিয়েছে। পরবর্তী সময়ে এই মামলার রায় কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স