২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

‘আফগানিস্তানকে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার অধিকার জাতিসংঘের নেই’

জাতিসংঘ-এর নিষেধাজ্ঞা তালিকা হালনাগাদকে অযৌক্তিক ও অকার্যকর বলে মন্তব্য করেছে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান। তাদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ সাধারণ আফগান জনগণের জন্য ক্ষতিকর এবং বাস্তব পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ন ছাড়াই নেওয়া হয়েছে।

ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, নিষেধাজ্ঞার ধারাবাহিক ব্যবহার নীতিগত ব্যর্থতার প্রতিফলন। তার ভাষ্য, বারবার একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যুক্তিহীন এবং এতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিশ্লেষণগত দুর্বলতা প্রকাশ পায়।

সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ-এর ১৯৮৮ নিষেধাজ্ঞা কমিটি ইমারাতে ইসলামিয়ার চার শীর্ষ কর্মকর্তার তথ্য হালনাগাদ করেছে। তারা হলেন—প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ, ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আবদুল গনি বারাদার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমীর খান মুত্তাকী এবং হেদায়াতুল্লাহ বদরী।

এ হালনাগাদে নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি; তবে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে সংশ্লিষ্টদের বিকল্প নাম ও ব্যক্তিগত তথ্য সংশোধন করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় সম্পদ জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

মুজাহিদ বলেন, এসব পদক্ষেপের প্রভাব মূলত সাধারণ জনগণের ওপর পড়ে। তার মতে, ব্যক্তিদের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামগ্রিক সমাজ ব্যবস্থাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আফগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা ছাড়াই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অন্যদিকে, জাতিসংঘ জানিয়েছে—বিশ্বব্যাপী সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান যে সমন্বিত নিষেধাজ্ঞা তালিকা ব্যবহার করে, তার নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেই এ ধরনের তথ্য হালনাগাদ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে, মোহাম্মদ হাসান আখুন্দের আরেক নাম “মোল্লা হাজি” এবং হেদায়াতুল্লাহ বদরীর আরেক পরিচয় “গুল আগা ইশাকজাই” হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় ইমারাতে ইসলামিয়ার অন্তত ২২ জন ব্যক্তির তথ্য যাচাই করা হয়েছে এবং বর্তমানে তালিকায় ৩০ জনের বেশি ব্যক্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে সিরাজউদ্দিন হক্কানী, মাওলানা আবদুস সালাম হানাফী এবং আবদুল হক ওয়াসিক-এর নামও রয়েছে। তবে মাওলানা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা এখনো এ তালিকার বাইরে রয়েছেন।

জাতিসংঘের অধীনে পরিচালিত এ নিষেধাজ্ঞা কাঠামোর মেয়াদ সম্প্রতি আরও এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে। ফলে ইমারাতে ইসলামিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।