মার্কিন হামলার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে ইরান। যুদ্ধের মূল পর্ব শেষ হওয়ার পর তেহরানের এমন অভাবনীয় পুনর্গঠনের গতি দেখে হতবাক হয়ে পড়েছেন ইসরাইলি ও মার্কিন সামরিক-গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট-এর বরাত দিয়ে ইন্ডিপেনডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা দ্রুত গতিতে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
জেরুজালেম পোস্টের তথ্যমতে, শীর্ষ ইসরাইলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে ইরান অস্ত্র পুনর্গঠনে নিত্যনতুন ও কার্যকর কৌশল বের করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ছিল প্রায় ১ হাজার ৩০০টি, যা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর সময় বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০টিতে পৌঁছেছিল। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে যে গতিতে নতুন অস্ত্র উৎপাদিত হচ্ছে, তা আগের যেকোনো পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি।
এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নেও তেহরানের সামরিক তৎপরতা নিয়ে একই রকম উদ্বেগের চিত্র ফুটে উঠেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরান গোয়েন্দা পূর্বাভাসের নির্ধারিত সময়সীমার বহু আগেই তাদের সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী নভেম্বরের মধ্যেই দেশটি তাদের ড্রোন হামলার সক্ষমতা পুরোপুরি পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পারবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও চীন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিভিন্ন উপাদান সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও বড় ধরনের সামরিক সংকট তৈরি করেছে। সম্প্রতি রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূরপাল্লার প্রিসিশন স্ট্রাইক এবং এটিএসিএমএস (ATACMS) ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত প্রায় শেষ করে ফেলেছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসন যদি পুনরায় নতুন কোনো সামরিক অভিযানে যেতে চায়, তবে তাদের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ মানবচালিত বোমারু বিমানের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা ইরানের সামরিক গতিবিধি সার্বক্ষণিকভাবে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখছে। তবে গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষার স্বার্থে বিস্তারিত কোনো মূল্যায়ন প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে আইডিএফ।