পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গোপন নথি ও একাধিক সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের সমর্থনেই ২০২২ সালে তার সরকার পতন ঘটে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের মধ্যে হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইমরান খানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে ট্রাম্প নাকি ইমরান খানের মুক্তির বিষয়টি সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সূত্রগুলো দাবি করেছে, ট্রাম্প বৈঠকে উল্লেখ করেন যে পাকিস্তানি-আমেরিকান ভোটাররা তার নির্বাচনী জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং তাদের বড় একটি অংশ ইমরান খানের মুক্তি প্রত্যাশা করে।
এদিকে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত প্রার্থীরা ব্যাপক জনসমর্থন পেলেও সামরিক হস্তক্ষেপে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত হয় এবং প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোকে ক্ষমতায় আনা হয়।
অন্যদিকে, ইমরান খানের পরিবার ও প্রবাসী পাকিস্তানিরা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তার মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছেন। বর্তমানে তিনি কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে কারাগারে রয়েছেন এবং বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তার যোগাযোগ সীমিত বলে জানা গেছে।
প্রকাশিত তথ্যে আরও বলা হয়, বাইডেন প্রশাসন ইমরান খানের পররাষ্ট্রনীতি—বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে তার নিরপেক্ষ অবস্থান—নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল। সাংবাদিক রায়ান গ্রিম ও মুর্তজা হুসেনের প্রকাশিত এক গোপন কূটনৈতিক বার্তায় দাবি করা হয়, ইমরান খান ক্ষমতায় থাকলে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত।
এর অল্প সময়ের মধ্যেই পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা হারান ইমরান খান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ও বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্র: ড্রপ সাইট, মিডল ইস্ট মনিটর