অভাবের কারণে দাওরায়ে হাদিসের কিতাব কিনতে না পেরে প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল এক মাদরাসাশিক্ষার্থীর পড়াশোনা। শেষ পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) উদ্যোগে ২৩ হাজার টাকা মূল্যের ২০টি কিতাব হাতে পেয়ে আবেগে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা ও ছেলে। তাদের এই আনন্দাশ্রুতে আপ্লুত হয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি উপস্থিত অনেকেই।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ আবেগঘন ঘটনার সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, উপজেলার হিজলা ইউনিয়নের চরকুড়ালতলা গ্রামের বাসিন্দা মো. মাকফুর মোল্লা (৫৫) পেশায় একজন দিনমজুর। ছয় সন্তানের জনক তিনি। তার তিন ছেলে ও তিন মেয়েই মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। বড় ছেলে হাফেজ মাহাদী হাসান মোল্লা বর্তমানে দাওরায়ে হাদিস (স্নাতকোত্তর) শ্রেণির শিক্ষার্থী।
অভাবের সংসারে ছেলের প্রয়োজনীয় কিতাব কিনতে না পারায় তার পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। পরে মাকফুর মোল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়ে লিখিত আবেদন করেন।
আবেদন পাওয়ার পর ইউএনও খাদিজা আক্তার নগদ অর্থ দেওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজনীয় কিতাব কিনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুযায়ী সোমবার ২৩ হাজার টাকা মূল্যের ২০টি কিতাব বাবা ও ছেলের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত কিতাব হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মাহাদী ও তার বাবা। তাদের আনন্দের কান্নায় উপস্থিত কর্মকর্তাসহ অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।
মাদরাসাশিক্ষার্থী হাফেজ মাহাদী হাসান মোল্লা বলেন, তিনি মাদারীপুরের শিবচর-ভাঙ্গা এলাকার মিয়াপাড়া খান হাবিবুর রহমান কওমিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী। ইউএনওর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা তার জানা নেই। তিনি আজীবন এ সহযোগিতার কথা স্মরণ রাখবেন।
শিক্ষার্থীর বাবা মো. মাকফুর মোল্লা বলেন, এক সেট কিতাবের জন্য তিনি অনেক জায়গায় ঘুরেছেন। কোথাও সহযোগিতা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ইউএনওর কাছে আবেদন করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই নতুন কিতাব কিনে দেওয়ায় তিনি ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট সবার জন্য দোয়া করেন।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, আমি একা নই, সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় এই কিতাবগুলো তাদের হাতে তুলে দিতে পেরেছি।