মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ‘আঞ্চলিক পাহারাদার’ হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ঘিরে দুই দেশের তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার তিনি এই মন্তব্য করেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে জানা যায়, ভারতে চলমান ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। বৈঠককালে পেজেশকিয়ান বলেন, “আমাদের কোনো আঞ্চলিক পাহারাদারের দরকার নেই।”
ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেছেন যে এই অঞ্চলের অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা কেবল এই ভূখণ্ডের মূল অংশীদার ও স্থানীয় রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পুরোদমে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিক্রিয়ায় অঞ্চলজুড়ে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেয় তেহরান এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে দেয়।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অবরোধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে, যার জেরে চলতি সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল অবাধ থাকলেও বর্তমানে এই পথে জাহাজ চলাচলের জন্য পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করেছে তেহরান। পাশাপাশি চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে সার্ভিস ফি আদায়ের পরিকল্পনাও করছে দেশটি। অন্যদিকে এই নির্দেশ অমান্যকারী জাহাজগুলোতে নিয়মিত হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই অবরোধ ভাঙতে দেশটির উপকূলীয় এলাকাগুলোতে পর্যায়ক্রমে বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী।
টানা ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতের মধ্যেও ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চায় না বলে স্পষ্ট করেছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, “আমাদের ওপর নানামুখী অন্যায় অবিচার সত্ত্বেও আমরা যুদ্ধ কিংবা এই সংঘাতের দীর্ঘসূত্রতা চাই না। শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এখন আমাদের মূল অগ্রাধিকার।”
বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং অন্যদিকে আঞ্চলিক শান্তি ফিরিয়ে এনে সংঘাত অবসানে ইরানের ইতিবাচক বার্তা স্পষ্ট হয়েছে।