শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের লক্ষ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বছরজুড়ে খেলাধুলা, সহ-পাঠ্যক্রমিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
সম্প্রতি মাউশি থেকে জারি করা এক বিশেষ পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মূল একাডেমিক কার্যক্রমের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় বজায় রেখে সুবিধাজনক সময়ে সারাবছর এসব কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
পরিপত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বমোট ৩৫টি কার্যক্রমের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ক্রীড়া কার্যক্রমের আওতায় রাখা হয়েছে ১৫টি খেলা। তালিকায় রয়েছে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, বাস্কেটবল, হ্যান্ডবল, হকি, দাবা, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, তায়কোয়ান্দো, মার্শাল আর্ট এবং বিভিন্ন গ্রামীণ ও ঐতিহ্যবাহী খেলা।
সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের তালিকায় রয়েছে ১৩টি বিষয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হামদ ও নাত, বাংলা ও ইংরেজি বক্তৃতা ও বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা, দেয়ালিকা প্রকাশ, বই পড়া, দৈনিক সংবাদপত্র পাঠ, সৃজনশীল লেখা, পরিবেশ সুরক্ষা, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা, গণিত অলিম্পিয়াড এবং পরিবেশ রক্ষায় ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি।
এ ছাড়া সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে সঙ্গীত, আবৃত্তি, একক অভিনয়, কুইজ প্রতিযোগিতা, নৃত্য, গ্রাফিতি অঙ্কন, চিত্রাঙ্কন এবং দেশীয় উৎসব ও ঐতিহ্যভিত্তিক নানা আয়োজন।
পরিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বয়েজ স্কাউট, রোভার স্কাউট, গার্ল গাইডস, বিজ্ঞান ক্লাব, বিতর্ক ক্লাব এবং স্বাস্থ্য ও শারীরিক শিক্ষা ক্লাবসহ বিভিন্ন সহায়ক সংগঠনের কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
মাউশি জানিয়েছে, কেবল পাঠ্যবইভিত্তিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, সামাজিক দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাস্থ্যকর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।