১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হরমুজে যুদ্ধের উত্তাপ; ফের ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার আশায় যখন কিছুটা স্বস্তি ফিরছিল জ্বালানি বাজারে, তখনই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে হামলা ও সহিংসতায় সেই আশায় বড় ধাক্কা লেগেছে।

হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারে পৌঁছেছে।

অক্টোবর ডেলিভারির জন্য ব্রেন্ট ফিউচারসের দাম ৮৯ দশমিক ৬১ ডলারে উঠেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এটি প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে আলোচনা চললেও নতুন করে হামলার ঘটনায় দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমছে। ফলে তেলের দামে বাড়তি ঝুঁকি-প্রিমিয়াম যুক্ত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, বাজার এখনো চুক্তির সম্ভাবনা পুরোপুরি বাদ দেয়নি। তবে আলোচনা যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং দাবিগুলো যত জটিল হচ্ছে, দ্রুত সমাধানে পৌঁছানো নিয়ে সংশয়ও তত বাড়ছে।

এর মধ্যেই মঙ্গলবার ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার অভিযোগ করেছে, ইরান-সমর্থিত হুথিরা বাব আল-মানদেব প্রণালীতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করেছে। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর দুজন সদস্যও ছিলেন বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের উপকূলরক্ষী বাহিনী।

অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করায় পানামার পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা চালিয়ে সেটিকে অচল করা হয়েছে।

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

তবে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওমান ও ইরানের আলোচনা অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। দোহা যত দ্রুত সম্ভব গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি পুনরায় চালু করতে আগ্রহী।

সব মিলিয়ে, হরমুজে সামরিক উত্তেজনা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে তেলের বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা।

Home R3