নওগাঁর মান্দায় মসজিদের ভেতরে ঢুকে প্রবীণ মুসল্লি মামুনুর রশিদ মামুনকে (৩৮) হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল ও একমাত্র আসামি ইসমাইল হোসেনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
দীর্ঘ আত্মগোপনের পর বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে মহাদেবপুর উপজেলার শিবগঞ্জ বাজারের একটি নির্মাণাধীন সেতু এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ইসমাইল হোসেন মান্দা উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের শামুকখোল গ্রামের মৃত ফারাতুল্লাহ শাহের ছেলে এবং নিহত মামুনুর রশিদের আপন শ্যালক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৫ আগস্ট) ফজরের নামাজ চলাকালে শামুকখোল গ্রামের একটি মসজিদের ভেতরে ঢুকে মামুনুর রশিদকে হাঁসুয়া দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেন ইসমাইল। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে তিনি মারা যান।
হামলার পর থেকেই ইসমাইল দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। বুধবার সকালে নিহতের স্বজনেরা ইসমাইলের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পেরে শিবগঞ্জ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তাকে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে মান্দা থানা পুলিশ মহাদেবপুর থানা পুলিশের সহায়তায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার পর নিহত মামুনের স্ত্রী নেহেরা খাতুন বাদী হয়ে তার আপন ভাই ইসমাইলের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেছিলেন। মামুনের মৃত্যুর পর আদালত মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের অনুমোদন দেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম জানান, মহাদেবপুর থানা পুলিশের সহায়তায় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাচেষ্টা মামলাটি বর্তমানে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে। অভিযুক্ত আসামি ইসমাইল হোসেনকে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।