উত্তর প্রদেশের সন্ত কবীর নগর জেলার খলিলাবাদে একটি মাদরাসা ভেঙে ফেলেছে প্রশাসন। তাদের দাবি, মাদরাসাটি কোনো অনুমোদন ছাড়াই তৈরি করা হয়েছিল।
রোববার (২৬ এপ্রিল) মাংস বাজার (মোতি নগর) এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল।
প্রশাসন জানায়, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ভাঙার নোটিশের বিরুদ্ধে আপিল করেছিল, কিন্তু সেই আপিল খারিজ হয়ে যাওয়ায় আর কোনো আইনি বাধা ছিল না।
এই প্রসঙ্গে খলিলাবাদের উপ-বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট হৃদয় রাম তিওয়ারি বলেন, “এ বিষয়ে এখন কোনো মামলাই বাকি নেই, তাই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।”
জেলা কর্মকর্তাদের দাবি, মাদরাসাটি কোনো অনুমোদিত নকশা ছাড়াই তৈরি হয়েছিল এবং সরকারি জমি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছিল।
প্রায় ৬৪০ বর্গমিটার জায়গার ওপর গড়ে ওঠা এই ভবনটি প্রায় ৮ বছর আগে বানানো হয়। ভাঙার সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জয় প্রকাশ ও সার্কেল অফিসার প্রিয়ম রাজশেখরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাদরাসাটির সঙ্গে মাওলানা শামসুল হুদা খানের নাম জড়িত বলে জানা গেছে। তিনি আজমগড়ের বাসিন্দা এবং ২০১৩ সালের দিকে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে থাকেন বলে জানা যায়। তার পরিবার—স্ত্রী, ছেলে ও পুত্রবধূ—এলাকাতেই থাকেন।
প্রশাসনের দাবি, তার বিরুদ্ধে অবৈধ বিদেশি অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। “রাজা ফাউন্ডেশন” নামের একটি এনজিও ও ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এসব অর্থ আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতারণা, জালিয়াতি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অন্তত তিনটি মামলা হয়েছে। এছাড়া, তিনি পাকিস্তান ভ্রমণ করেছেন এবং উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকতে পারে—এমন অভিযোগও রয়েছে, তবে এসব এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
মাদরাসা ভাঙার এই ঘটনা উত্তর প্রদেশ প্রশাসনের অবৈধ নির্মাণ ও সন্দেহজনক অর্থায়নের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল।