সিন্ধু নদী ব্যবস্থাকে ঘিরে ভারতের যেকোনো পদক্ষেপ পাকিস্তানের পানি নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করলে ইসলামাবাদ সামরিক জবাব দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।
রোববার (২২ জুন) পাকিস্তানের বেসরকারি টেলিভিশন এআরওয়াই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, পানি শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার অংশ। পাকিস্তানের পানির ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে দেশটি নীরব থাকবে না।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “যদি আমরা মনে করি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে, তাহলে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিতে আমরা পিছপা হব না।”
এর আগে ভারতের জলশক্তিমন্ত্রী সি আর পাটিলের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই বক্তব্যে ২০২৮ সালের মধ্যে পাকিস্তানের দিকে সিন্ধু নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়।
১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি অনুযায়ী নদী ব্যবস্থার পানি দুই দেশের মধ্যে বণ্টিত হয়। চুক্তি অনুসারে সিন্ধু অববাহিকার প্রায় ৮০ শতাংশ পানি ব্যবহার করে পাকিস্তান, যা দেশটির কৃষি ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারত ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর থেকে চুক্তি কার্যকর নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং সীমান্তপারের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে কিছু পদক্ষেপ স্থগিত রাখে বলে জানায়।
এদিকে পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, ভারতের কিছু নদী প্রকল্প তাদের পানির প্রবাহ কমাতে পারে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির লঙ্ঘন হবে। দেশটি বিষয়টি জাতিসংঘে উত্থাপন করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পানি নিয়ে এই বিরোধ দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করছে, যা দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।