প্রতিবেশী ভারতকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারের স্থান দখল করে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি সমাপ্ত অর্থবছরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঢাকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন এসেছে। তবে বড় ব্যবধানে আগের মতোই শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদারের অবস্থান ধরে রেখেছে চীন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবের বরাতে গণমাধ্যম জানায়, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্য পৌঁছেছে ১২ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন (১ হাজার ২৬৭ কোটি) মার্কিন ডলারে। একই সময়ে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের আকার ছিল ১০ দশমিক ৭২ বিলিয়ন (১ হাজার ৭২ কোটি) ডলার। ফলে প্রায় ১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবধানে ভারতকে পেছনে ফেলে দুই নম্বরে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাওয়াই এই পরিবর্তনের মূল কারণ। গত এক বছরে দেশটি থেকে বাংলাদেশের আমদানি প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন শুল্কনীতির সম্ভাব্য চাপ সামলানো এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক কৌশলগত অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন থেকে গম, সয়াবিন বীজ, তুলা এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বহুলাংশে বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান ক্রয়ের চুক্তিও সামগ্রিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
বিপরীতে, বিভিন্ন ধরনের নীতিগত কড়াকড়ি এবং পাল্টাপাল্টি বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের কারণে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে কিছুটা ভাটা পড়েছে। বাংলাদেশ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি সাময়িক স্থগিত রাখে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় কলকাতা বিমানবন্দর দিয়ে তৃতীয় কোনো দেশে বাংলাদেশের পণ্য পাঠানোর ট্রানজিট সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয় ভারত। এসব কারণে প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই পতন দেখা দেয়।
সব মিলিয়ে দিল্লির সঙ্গে ঢাকার বাণিজ্যিক কার্যক্রমে কিছুটা মন্থর গতি তৈরি হলেও ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল।