১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশ থেকে পাট নেবে পাকিস্তান, করাচি থেকে আসবে খাদ্য পণ্য

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে বড় ধরনের অগ্রগতি হতে যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও পাটসহ বিভিন্ন খাদ্য ও কৃষিপণ্য আমদানি-রপ্তানি সহজ করতে শিগগিরই একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকায় শিল্প মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে পাকিস্তানের ট্রেডিং কর্পোরেশন (টিসিপি)-এর চেয়ারম্যান আসিম আজিম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির এবং ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠকে পাকিস্তান বাংলাদেশের কাছে চাল, মসুর ডাল, ছোলা, সার ও ভোজ্যতেল রপ্তানিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। অন্যদিকে পাকিস্তানের শিল্পখাতে বাংলাদেশের উন্নত মানের পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদার কথাও তুলে ধরা হয়।

টিসিপি চেয়ারম্যান জানান, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে বাংলাদেশে পণ্য সরবরাহে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যক্রম জোরদার ও বাণিজ্য প্রতিনিধি দল বিনিময় বাড়ানোর বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

বাংলাদেশের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আব্দুল মুক্তাদির টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় বাড়ানো গেলে দুই দেশের জন্য নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগটি সময়োপযোগী। পাকিস্তানের কৃষিপণ্য বাংলাদেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে, আর বাংলাদেশের পাটজাত পণ্য পাকিস্তানের টেক্সটাইল ও প্যাকেজিং শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক সই হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক জটিলতা কমবে এবং সরাসরি বাণিজ্য আরও সহজ ও দ্রুত হবে। এতে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া শুল্ক কমানো, মানদণ্ডের সমন্বয় এবং সরাসরি পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নের মতো বিষয়েও কাজ করবে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সমঝোতা স্মারক সই হবে, যা দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

Home R3