৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশিদের আকামা নবায়নে নতুন সুযোগ: সৌদি সরকারের ঘোষণা

সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আকামা (ইকামা) নবায়ন সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সুখবর দিয়েছে দেশটির সরকার। এখন থেকে কোনো কারণে মূল নিয়োগকর্তা বা কফিল আকামা নবায়ন না করলে, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা দ্রুত অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে আকামা নবায়নের সুযোগ পাবেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ তথ্য জানান সৌদি আরবের ডেপুটি মিনিস্টার অব হিউম্যান রিসোর্সেস মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ঈসা। এ সময় সৌদির ডেপুটি মিনিস্টার অব ফরেন কনস্যুলার ড. মোহাম্মদ এ এম আলশামেরিও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতেই আল-ঈসা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য এ নতুন সুবিধার কথা তুলে ধরে জানান, এতে আকামা নবায়নে আর কোনো আইনগত বাধা থাকবে না।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই দেশের শ্রমবাজারে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে গৃহকর্মী নিয়োগ চুক্তি, শ্রম দক্ষতা যাচাইকরণ প্রোগ্রাম (এসভিপি) এবং সাধারণ কর্মী নিয়োগ চুক্তির পর্যালোচনা ও নবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি যৌথ কমিশন ও যৌথ প্রযুক্তিগত কমিটির বৈঠক আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আরবি ভাষা প্রশিক্ষণ এবং সৌদি আইন ও সংস্কৃতি বিষয়ে ধারণা দিতে বাংলাদেশে একটি ‘সৌদি-বাংলাদেশ যৌথ কারিগরি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়।

স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইটি ও হসপিটালিটি খাতে দক্ষ কর্মী নিয়োগ সহজ করতে কারিগরি ও পেশাগত যোগ্যতার পারস্পরিক স্বীকৃতি চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ওয়ার্ক পারমিট ও আকামা সময়মতো ইস্যু ও নবায়নে সৌদি সরকারের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীরা সৌদি আরবের উন্নয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

তিনি আরও বলেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আরবি ভাষাজ্ঞান কাজে লাগিয়ে তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক ২০৩৪ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ কর্মী নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নারী গৃহকর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সৌদি প্রতিনিধি আল-ঈসা স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, আইটি ও হসপিটালিটি খাতে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় ইতোমধ্যে ওয়েজ প্রটেকশন সিস্টেম ও বীমা ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

এ সময় সৌদি আরবে আটক বাংলাদেশি কর্মীদের বিষয়ে তথ্য দিলে সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Home R3