৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আমি চলে গেলে কেউ দেবে না, তাই সবকিছুতে নিজের নাম দিচ্ছি: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অকপটে স্বীকার করেছেন যে, বিভিন্ন সরকারি ভবন, মেগা প্রকল্প ও নীতিমালার সঙ্গে তিনি নিজেই নিজের নাম যুক্ত করছেন। তাঁর মতে, তিনি ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার পর অন্য কেউ তাঁর নামে এসব স্মৃতিস্তম্ভ বা স্থাপনা তৈরি করবে না। সম্প্রতি *নিউইয়র্ক ম্যাগাজিন*-এর সাংবাদিক বেন টেরিসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম *দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট*-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এর আগে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ মন্তব্য করেছিলেন, ট্রাম্প নিজের জীবদ্দশাতেই নিজের স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করছেন, কারণ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বা অন্য কেউ তাঁর হয়ে তা করবে না। ওই মন্তব্যের প্রতিধ্বনি করে ট্রাম্প বলেন, “এটা একদম সত্য। আমি এখান থেকে চলে যাওয়ার পর আর কেউ এটি করবে না।”

ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে একের পর এক বিতর্কিত নির্মাণ ও সংস্কারকাজ চলছে। এর মধ্যে কেনেডি সেন্টার ও এর ক্যাম্পাসের নাম পরিবর্তন করে নিজের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি, যা নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা চলছে। এছাড়া ঐতিহাসিক একটি গলফ কোর্স এবং লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারের পাশাপাশি প্যারিসের আর্ক দ্য ত্রিয়ঁফের আদলে রাজধানীতে একটি বিশাল স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এমনকি বিচার বিভাগের সদর দফতরসহ বিভিন্ন ফেডারেল ভবনে ট্রাম্পের বিশালাকার ব্যানার টাঙানো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর সংবিধানে ট্রাম্পের ছবি সংবলিত ‘প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট’ চালু করেছে এবং দেশটির টাঁকশাল বের করেছে তাঁর মুখাবয়ব দেওয়া এক ডলারের স্মারক মুদ্রা। মার্কিন সামরিক বাহিনীতেও ‘ট্রাম্প-ক্লাস’ যুদ্ধজাহাজ এবং ‘ইউএসএস ডোনাল্ড জে ট্রাম্প’ নামের বিমানবাহী রণতরী তৈরির রূপরেখা রাখা হয়েছে।

কেবল স্থাপত্য বা অবকাঠামো নয়, প্রশাসনের নানা কর্মসূচিতেও তাঁর নাম স্পষ্ট। এর মধ্যে রয়েছে ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’, ‘ট্রাম্পআরএক্স’ এবং ১০ লাখ ডলারের বিনিময়ে দ্রুত বৈধ বসবাসের সুযোগ সংবলিত ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’।

ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় ও আলোচিত প্রকল্পগুলোর একটি হলো হোয়াইট হাউসের ঐতিহাসিক পূর্ব উইং ভেঙে ৯০ হাজার বর্গফুটের এক বিলাসবহুল বলরুম নির্মাণ। এই কমপ্লেক্সে থাকবে সোনালি মার্বেল, ঝাড়বাতি, ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার, সামরিক কমপ্লেক্স এবং ছাদে ড্রোন পরিচালনার সুবিধা। ট্রাম্প জানান, এটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত কংক্রিট ও শক্তিশালী ইস্পাত দিয়ে তৈরি হচ্ছে, যেন কোনো পারমাণবিক হামলায়ও এটি অক্ষত থাকে এবং ভবিষ্যতে কেউ সহজে এটি ভাঙতে না পারে। ভবনটিতে তাঁর নাম থাকবে কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “হওয়া উচিত। জানি না হবে কি না, তবে হওয়া উচিত।” সংরক্ষণবাদীদের আপত্তি সত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্ট সাময়িকভাবে এর কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৮০ বছর বয়সি ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়োবৃদ্ধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নানামুখী তদন্ত, অভিশংসনের চাপ এবং সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক দফা কথিত হত্যাচেষ্টার শিকার হওয়ার পর ট্রাম্প এখন নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও মৃত্যু নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি খোলামেলা কথা বলছেন। গত বছর ইউক্রেন যুদ্ধ সমাপ্তির বিষয়ে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প রসিকতা করে বলেছিলেন, তিনি স্বর্গে যেতে চান এবং ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে পারলে হয়তো তাঁর স্বর্গে যাওয়ার পথ কিছুটা সহজ হতে পারে।

Home R3