প্রলয়ঙ্কারী বন্যায় ভেসে আসা পুরু কাদা, আবর্জনা আর বিধ্বস্ত কাঠামোর ভেতর টানা দশ দিন আটকে থাকার পর নেপালে অলৌকিকভাবে দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা শ্রমিক এবং ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৬৪ বছর বয়সি এক বৃদ্ধাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
এ নিয়ে সাম্প্রতিক এই বিপর্যয়ে দীর্ঘ সময় পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধারের মোট সংখ্যা দাঁড়াল চারে।
সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবারের অভিযানে ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ২২৫ মিটার দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গ থেকে ওই চীনা নাগরিককে অক্ষত উদ্ধার করা হয়। এর আগে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) একই কেন্দ্রের (ত্রিশূলী-৩এ) সুড়ঙ্গ থেকে দুই নেপালি শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। নেপালি সামরিক বাহিনী এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দুর্যোগ মোকাবিলা বিশেষজ্ঞদের একটি যৌথ দল সফলভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধারের পরপরই হেলিকপ্টারে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সামরিক চিকিৎসকরা তাকে জরুরি চিকিৎসা দেন এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে শনিবার একই দিনে দেশটির নুওয়াকোট শহরে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি থেকে চন্দিকা শ্রেষ্ঠা (৬৪) নামের এক বৃদ্ধাকে জীবিত বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা। কম্বলে জড়িয়ে নিরাপদে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হেলিকপ্টারযোগে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়েছে।
নেপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এখনো প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে অন্তত ৫০০ জন বিভিন্ন ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে আছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসের কারণে নেপালে এই আকস্মিক ও প্রলয়ঙ্কারী বন্যা আঘাত হানে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১ হাজার ৩০০ মানুষের প্রাণহানি নিশ্চিত হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫ সহস্রাধিক মানুষ। দুর্গত এলাকায় এখনো জোর তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন জরুরি বিভাগের সদস্যরা।