১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পর্তুগালের জাতীয় দিবস আজ

লিসবনসহ বিশ্বজুড়ে আজ উদযাপিত হচ্ছে পর্তুগালের জাতীয় দিবস ‘পর্তুগাল ডে’। বুধবার (১০ জুন) পালিত এই দিনটি পর্তুগিজ ভাষায় ‘দিয়া দে পর্তুগাল, দি কামোয়েস ই দাস কমুনিদাদেস পর্তুগিজাস’ নামে পরিচিত।

দিনটি শুধুমাত্র একটি জাতীয় ছুটি নয়; বরং পর্তুগালের ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা পর্তুগিজ সম্প্রদায়ের আত্মপরিচয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

পর্তুগিজদের জাতীয় দিবসটি ইউরোপের অনেক দেশের মতো সামরিক বিজয় বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। বরং এটি উৎসর্গ করা হয়েছে দেশটির শ্রেষ্ঠ কবি লুইস ভাজ দে কামোয়েন্সের স্মৃতির প্রতি, যিনি ১৫৮০ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন। তার রচিত মহাকাব্য ‘ওস লুসিয়াদাস’ পর্তুগিজদের সমুদ্রযাত্রা, অভিযান ও বীরত্বগাথাকে বিশ্বসাহিত্যে স্থায়ীভাবে স্থান দিয়েছে।

ইতিহাস অনুযায়ী, কামোয়েন্সের মৃত্যুর পরপরই পর্তুগাল স্পেনের শাসনের অধীনে চলে যায়। তবে তার সাহিত্যকর্ম পর্তুগিজদের সাংস্কৃতিক চেতনা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে অনুপ্রেরণা জোগায়।

পর্তুগাল ডে এখন বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। ইউরোপের বাইরে ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলেও প্রবাসী পর্তুগিজরা দিনটি উদযাপন করছেন।

রাজধানী লিসবনে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত পর্তুগিজরা সংগীত, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করছেন।

পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো দে সৌজা এক বার্তায় বলেন, একটি জাতির শক্তি শুধু তার ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং তার ভাষা ও সংস্কৃতিতেই নিহিত থাকে।

ঐতিহ্য, সাহিত্য ও জাতীয় পরিচয়ের এই দিনকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে পর্তুগিজ সম্প্রদায়ের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

Home R3