৯ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিভিন্ন হলে ছাত্রদের মারামারি ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ সুগম করছে: জমিয়ত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও জনগণের প্রত্যাশার আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দেশের সব রাজনৈতিক দলই একমত বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। তবে জুলাই সনদ প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে এ ধরনের ধাক্কাধাক্কির এবং হলগুলোতে ছাত্রদের মারামারির ফলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ সুগম হচ্ছে। এ মুহূর্তে বিভেদ ও বিরোধে না জড়িয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুফতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে এবং মুফতি বশীরুল হাসান খাদিমানী ও মুফতি নুরুল আলম ইসহাকীর সঞ্চালনায় কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

কাউন্সিলে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক মাওলানা যাইনুল আবিদীন।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন জমিয়তের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহা উদদীন যাকারিয়া, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মতিউর রহমান গাজীপুরী, মাওলানা আব্দুল হক কাওসারী, মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মুফতি মকবুল হোসাইন কাসেমী, মাওলানা জিয়াউল হক কাসেমী, মাওলানা জয়নুল আবেদীন, প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মাওলানা আবুল বাশার, দফতর সম্পাদক মাওলানা হেদায়েতুল ইসলাম, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুফতি জাবের কাসেমী, মুফতি রেদওয়ানুল বারী সিরাজী এবং যুব জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইসহাক কামালসহ অনেকে।

জমিয়তের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক দল বা পক্ষকে উপেক্ষা করা যাবে না। সনদ প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও আপত্তিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন কমিশন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর যথাযথ মূল্যায়ন করেনি। বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য সব পক্ষের মতামতের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।

মাওলানা আফেন্দী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। তাই শুধু রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের আলোচনা করলেই হবে না; একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সংকটও সমাধান করতে হবে।

বক্তারা বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে কোনো সংস্কারই টেকসই হবে না। বাজার সিন্ডিকেট, মজুতদারি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তারা বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকট ও দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জনগণের শোক, দুঃখ ও কষ্ট উপলব্ধি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।

বক্তারা বলেন, কোন ব্যক্তির হোক বা কোন ইসলামিক দলের নেতাকর্মীদের‌ই ভাস্কর্য হোক সবই ইসলামি শরীয়া মোতাবেক অবৈধ। জুলাই জাদুঘরে যেই হেফাজতের নেতাকর্মীদের ভাস্কর্য করা হয়েছে তা অপসারণ করতে হবে।

কাউন্সিলে মুফতি মাহবুবুল আলমকে সভাপতি, মুফতি নুরুল আলম ইসহাকীকে সাধারণ সম্পাদক, মাওলানা আনোয়ার হামিদীকে সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুফতি শাব্বির আহমদকে প্রচার সম্পাদক করে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Home R3