যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপের মুখে দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা থেকে ধীরে ধীরে সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল। ইসরাইলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’-এর বরাতে আজ (২৩ জুন) মঙ্গলবার এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ লেবানন থেকে সম্ভাব্য সেনা প্রত্যাহারের প্রাথমিক রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করতে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে আজই একটি বিশেষ বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিতব্য এই আলোচনায় দুই দেশের রাষ্ট্রদূতদের পাশাপাশি তিনজন ইসরাইলি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অংশ নেবেন। এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়াটি লেবাননের সেনাবাহিনীর সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস ও পুনর্গঠন শুরু করেছে। ইসরাইলি সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ইসরাইল এমন সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যেখানে তথাকথিত “নিরাপত্তা অঞ্চল”-এর কিছু এলাকা থেকে তাদের ধাপে ধাপে সরে যেতে হতে পারে, যাতে আস্থা-বর্ধক পদক্ষেপ হিসেবে লেবাননের সেনাবাহিনী সেখানে পুনরায় মোতায়েন হতে পারে।
এদিকে লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে। তবে এই ব্যবস্থায় ইরান ও কাতার অংশ নিলেও ইসরাইলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ইসরাইলি সূত্রগুলোর মতে, ইরানের উপস্থিতির কারণেই ইসরাইলকে এই প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে।
এর আগে সোমবার, ইসরাইলের চ্যানেল ১৩ এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানায় যে, ওয়াশিংটন সম্প্রতি ইসরাইলকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে—লেবাননে আগের মতো বাধাহীন সামরিক অভিযান চালানোর স্বাধীনতা তাদের আর নেই। তেল আবিবের স্থানীয় গণমাধ্যম ‘মা’রিভ’ জানিয়েছে, লেবানন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে মতপার্থক্য ক্রমাগত বাড়ছে। ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে দক্ষিণ লেবাননের বিষয়টি বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী, আন্তর্জাতিক জ্বালানির মূল্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনের প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত।
অন্যদিকে ইসরাইলের বিশ্বাস—দক্ষিণ লেবানন থেকে আগাম সেনা প্রত্যাহার করা হলে তা নিজেদের দুর্বলতা হিসেবে প্রকাশ পাবে এবং এটি হিজবুল্লাহর জন্য এক ধরনের পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এই ঘটনাপ্রবাহের নেপথ্যে সুইজারল্যান্ডে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানা ১৮ ঘণ্টার একটি দীর্ঘ কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর বিভিন্ন অমীমাংসিত ধারা এবং লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে শত্রুতা বন্ধের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, লেবাননের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলের এই সামরিক অভিযানে লেবাননে এ পর্যন্ত ৪,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত, ১২,০০০-এর বেশি আহত এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের যেসব এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী অবস্থান করছে, তার কিছু অংশ বহু দশক ধরে এবং বাকি অংশ ২০২৩-২০২৪ সালের যুদ্ধের সময় দখল করা হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু