২৩শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত ইউরোপ, ১৮ জনের মৃত্যু

ইউরোপজুড়ে চলমান রেকর্ডভাঙা তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার (২২ জুন) দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সে একটি পারিবারিক গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুর মৃত্যু হয়। তাদের অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এছাড়া বর্দো অঞ্চলে তীব্র গরমজনিত স্বাস্থ্য জটিলতায় তিন প্রবীণের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় গরম থেকে স্বস্তি পেতে জলাশয়ে নামার পর রোববার থেকে সোমবারের মধ্যে অন্তত ১৩ জনের ডুবে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বর্তমানে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের বড় অংশ একটি ‘হিট ডোম’-এর প্রভাবে রয়েছে, যা ‘ওমেগা ব্লক’ নামেও পরিচিত। এর ফলে উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা মরুভূমি থেকে উষ্ণ বায়ু ইউরোপে প্রবেশ করে তাপমাত্রা দীর্ঘস্থায়ীভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ফ্রান্সের বর্দো অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশটির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে বা সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাজধানী প্যারিসেও জুন মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্পেন, ইতালি ও যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশেও তাপপ্রবাহের প্রভাব তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইতালির ১২টি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে এবং ব্রিটেনে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, এই তীব্র গরমের প্রভাব বন্যপ্রাণীর ওপরও মারাত্মকভাবে পড়েছে। বেলজিয়ামে অতিরিক্ত তাপের কারণে বহু পাখি মারা যাচ্ছে এবং উদ্ধারকেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক অসুস্থ প্রাণী আনা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।