ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন সামরিক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর নয়াদিল্লি একাধিকবার প্রতিবাদ জানালেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থানে অনড় থেকে কঠোর বার্তা দিয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, রোববার (১৪ জুন) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিহত নাবিকদের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানান। তবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, হরমুজ প্রণালিতে তাদের আরোপিত অবরোধ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
মার্কিন পক্ষ জানায়, হরমুজ প্রণালিতে তাদের সামরিক নির্দেশনা সব বাণিজ্যিক জাহাজকে মেনে চলতে হবে। অবরোধ লঙ্ঘন বা ইরান থেকে তেল পরিবহনের চেষ্টা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
এর আগে, ওমান উপকূলে পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘এমটি সেট্টেবেলো’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, জাহাজটি তাদের নির্দেশ অমান্য করে ইরানি তেল পরিবহনের চেষ্টা করছিল। এ কারণে যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালিয়ে জাহাজটিকে অচল করে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর দিল্লিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে দুই দফায় তলব করে ভারত। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে আরেকটি ভারতীয় নাবিক বহনকারী জাহাজে হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘দুঃখজনক ও এড়ানো সম্ভব ছিল’ উল্লেখ করে বেসামরিক জাহাজে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সুরক্ষাকে হুমকির মুখে ফেলে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিহতদের বিষয়ে কোনো সমবেদনা প্রকাশ না করায় সমালোচনা করেছেন ভারতের এক শীর্ষ বিরোধী নেতা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো জাহাজ নির্দেশ না মানলে সেটিকে থামাতে প্রাণঘাতী হামলাই কি একমাত্র উপায় ছিল?
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন করে টানাপোড়েনের মুখে পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।