৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আমেরিকাকে কোণঠাসা করতে ইরানের নতুন কৌশল

সরাসরি সামরিক সংঘাতে না গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ, সমুদ্রপথ ও জ্বালানি অবকাঠামোকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান—এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ এড়িয়ে ধাপে ধাপে উত্তেজনা বাড়িয়ে সংঘাত বিস্তৃত করার কৌশল নিয়েছে তেহরান। এর মাধ্যমে আমেরিকা ও তার মিত্রদের কাছে বার্তা দিতে চায় যে সংকট নিয়ন্ত্রণের খরচ ইরানের দাবি মেনে নেওয়ার চেয়েও বেশি।

ইরানের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স্বীকার না করলে উত্তেজনা উপসাগরের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ও জ্বালানি অবকাঠামোকে ঝুঁকিতে ফেলে ভবিষ্যৎ আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করাই তাদের লক্ষ্য।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের গবেষক মাইকেল নাইটস বলেন, আমেরিকার তুলনায় দ্রুত উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে ইরান। প্রতি সপ্তাহেই তারা নতুন ভৌগোলিক এলাকা, অস্ত্র বা লক্ষ্যবস্তু সামনে এনে চাপ সৃষ্টি করছে। তার মতে, ইরানের বড় শক্তি সরাসরি ক্ষতি নয়, বরং আঞ্চলিক দেশ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন ঘটানোর সক্ষমতা দেখানোর পর ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, লোহিত সাগরসহ অন্যান্য সমুদ্রপথও তাদের আওতার বাইরে নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এসব হুমকি বৈশ্বিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি আমেরিকার সহনশীলতা যাচাইয়ের অংশ।

উপসাগরীয় একটি সূত্র জানায়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মনে করে, বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে তারা আরও বেশি সুবিধা আদায় করতে পারবে। তাদের ধারণা, আসন্ন নির্বাচনের আগে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে বড় কোনো সংঘাতে জড়াতে চাইবে না।

এদিকে, আমেরিকার সাবেক কূটনীতিক অ্যালান আইয়ার বলেন, ইরানের লক্ষ্য হলো এমন প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে তোলা, যাতে আমেরিকা অবরোধ শিথিল করতে ও সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়।

সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। ইরান এ প্রণালিতে প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ও জাহাজ থেকে ফি আদায়ের ক্ষমতা চাইলেও আমেরিকা এটিকে আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে অবাধ রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের কৌশলের প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। সরাসরি চাপ বাড়ানোর বদলে আঞ্চলিক ও পশ্চিমা দেশগুলো এখন বাণিজ্যপথ ও জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তেজনা ও পাল্টা উত্তেজনার এই পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান যাচাই করছে। তবে কোনো পক্ষই পিছু হটার ইঙ্গিত না দেওয়ায়, এই কৌশল শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

Home R3