১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

‘অভিমান ভাঙাতে’ শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে বসবেন তারেক রহমান

আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করা রাজনৈতিক শরিকদের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। চলতি সপ্তাহেই যুগপৎ আন্দোলনের শরিক নেতাদের সম্মানে এক নৈশভোজের আয়োজন করতে যাচ্ছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আগামী বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার এই ডিনার অনুষ্ঠিত হতে পারে। ইতোমধ্যে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া দলগুলোর তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে দ্রুত আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হবে।

যুগপৎ আন্দোলনের শরিক গণতন্ত্র মঞ্চভুক্ত ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের এ বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিএনপির নেতৃত্বে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে চারটি জোটসহ মোট ৪২টি রাজনৈতিক দল সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এর মধ্যে ১১টি দলকে ১৬টি আসন ছেড়ে দেয় বিএনপি। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর দলটি সরকার গঠন করে এবং শরিকদের মধ্য থেকে দুই নেতাকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।

তবে অধিকাংশ শরিক দল এটিকে ‘জাতীয় সরকার’ হিসেবে মানতে নারাজ। কারণ, ৩১টি দল এখনো কোনো ধরনের সরকারি পদ বা দায়িত্ব পায়নি। জেলা পরিষদের প্রশাসক কিংবা সংরক্ষিত নারী আসনেও শরিকদের প্রতিনিধিত্ব না থাকায় তাদের মধ্যে হতাশা ও অভিমান তৈরি হয়েছে।

গত কয়েক মাসে শরিক দলের নেতারা সরকার ও বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগও পাননি অনেকেই।

এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন বৈঠকে শরিকরা তাদের ‘যথাযথ মূল্যায়ন’ দাবি করবেন বলে জানা গেছে। তারা মন্ত্রিসভায় আরও প্রতিনিধিত্ব, টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্তি, সংসদের উচ্চকক্ষে জায়গা এবং উপদেষ্টা, রাষ্ট্রদূত, ব্যাংক ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে পদায়নের প্রত্যাশা করছেন।

১২-দলীয় জোট প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শরিকদের নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই যোগ্যতা অনুযায়ী সবাইকে মূল্যায়ন করা হবে।

ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন মো. ফারুক রহমানও একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া সত্ত্বেও অধিকাংশ শরিক এখনো কোনো স্বীকৃতি পাননি।

অন্যদিকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিএনপি জাতীয় সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি। তার মতে, দুই একজন প্রতিমন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত করলেই তা জাতীয় সরকার হয়ে যায় না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শরিকদের এই অসন্তোষ নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর এই ডিনার বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে জোটের ভেতরের দূরত্ব কমে আসবে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে নতুন দিকনির্দেশনা আসতে পারে।

Home R3