যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বড় জয়ের পর দলটিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের দায় নিতে অস্বীকার করেছেন তিনি। বরং নির্বাচনে হারের পেছনে নিজ দলের ব্যর্থতা ও ইরান যুদ্ধকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে ফক্স নিউজের ‘ডেমোক্রেসি ২৬’ অনুষ্ঠানে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। তারা সত্যিই ভালো করেছে। গত ১১ বছর ধরে তারা এ ধরনের একটি জয়ের অপেক্ষায় ছিল। অবশেষে তা অর্জন করেছে।’
তবে এই ফলাফলকে নিজের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন না বলে জানান ট্রাম্প। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি এবার নয় উল্লেখ করে তিনি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন।
তবে সহযোগিতার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটদের পাঠানো বিল আটকে দিতে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহারের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটরা হয়তো অনেক বড় ও উৎসাহব্যঞ্জক ৫০টি বিল পাঠাবে। কিন্তু তিনি সেগুলোতে ভেটো দিয়ে ফেরত পাঠাবেন।
নির্বাচনি জরিপে দেখা গেছে, ইরান যুদ্ধ এবং এর প্রভাবে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি স্বীকার করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, এর একটি কারণ ছিল ইরান। তবে একই সঙ্গে ইরানের ব্যাপারে আমি যা করেছি, তার গুরুত্বও মানুষ বুঝতে পেরেছিল।’
নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি নিজে ব্যালটে ছিলেন না। তাঁর ভাষ্য, তিনি প্রার্থী হলে রিপাবলিকানরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করত।
টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসার কাছে হেরে যাওয়ার পর ট্রাম্প মন্তব্য করেন, অ্যাবট যদি নামেই রিপাবলিকান না হতেন, তাহলে তিনি পরাজিত হতেন না।
এদিকে, হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ডেমোক্র্যাটদের এ জয়কে সাময়িক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, ইরান যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে। তবে তত দিনে ভোটাররা উগ্র উদারপন্থি ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে আটকে পড়বেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সতর্ক করে হোয়াইট হাউস আরও বলেছে, উগ্র বামপন্থিদের থামাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সংকল্প আরও দৃঢ় হবে।