আমেরিকার প্রধান কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বিরোধের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু করেছে হোয়াইট হাউস। ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ নামে ২৪ ঘণ্টার এই অনলাইন সম্প্রচারে ট্রাম্পের ভাষণ, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় সম্প্রচারটি শুরু হয়। হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক ইউটিউব চ্যানেল ও ওয়েবসাইটে এটি চালু করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নতুন এই মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, অতীতের ভাষণ, সরকারি ঘোষণা ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ভিডিও এক জায়গায় পাওয়া যাবে। নিয়মিত নতুন ভিডিও যুক্ত করে সম্প্রচারটি হালনাগাদ রাখা হবে।
প্রথম সম্প্রচারে গত ৩ জুলাই মাউন্ট রাশমোরে দেওয়া ট্রাম্পের একটি ভাষণের ভিডিও দেখানো হয়। তবে এই মাধ্যমে নিয়মিত সরাসরি সংবাদ ও চলমান ঘটনাবলি সম্প্রচার করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্প টিভি চালুর কয়েক দিন আগেই আমেরিকার তিনটি সংবাদমাধ্যম সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, এসব সংবাদমাধ্যম তাঁকে নিয়ে মিথ্যা ও নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করছে।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার আমেরিকার ফেডারেল আদালতে যৌথ মামলা করে তিনটি সংবাদমাধ্যম। তাদের দাবি, সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি বাতিলের মাধ্যমে সংবিধানের প্রথম ও পঞ্চম সংশোধনীর অধীনে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমগুলো আদালতের কাছে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত এবং সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের আবেদন জানিয়েছে।
এদিকে, নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে এবিসি, সিবিএস, এনবিসি ও ফক্স নিউজ প্রেসিডেন্টের কার্যক্রমের যৌথ ভিডিও কাভারেজ স্থগিত করেছে। সিএনএনসহ এসব টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পালাক্রমে প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ড ধারণ করে অন্যান্য সংবাদমাধ্যমকে ভিডিও সরবরাহ করে থাকে।
ট্রাম্প অবশ্য সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দাবি, প্রশাসন স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে নয়; বরং ভুয়া সংবাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেছেন, এসব সংবাদমাধ্যমের মিথ্যা সংবাদ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি।
অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞার শিকার সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, তাদের সংবাদ পরিবেশনের ধরন পছন্দ না হওয়ায় হোয়াইট হাউস এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকার কোন সংবাদ প্রকাশ করা হবে বা হবে না, তা নির্ধারণ করতে পারে না।
সংবাদমাধ্যমগুলোর সঙ্গে এমন বিরোধের মধ্যেই ট্রাম্পের নামে নিজস্ব অনলাইন সম্প্রচারমাধ্যম চালু করল হোয়াইট হাউস। এর মাধ্যমে প্রশাসন সরাসরি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, ঘোষণা ও কর্মকাণ্ডের ভিডিও দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবে।
তবে টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর যৌথ ভিডিও কাভারেজ স্থগিত থাকলেও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকেরা প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ডের সংবাদ সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছেন।
সূত্র: হোয়াইট হাউস, রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।