পর্তুগালে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি বিক্রিতে বাধা কমাতে নতুন আইন

পর্তুগালে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে বিক্রি আটকে থাকলে নতুন নিয়মে দুই বছর পর একজন উত্তরাধিকারীই বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত বাড়ি ও জমি বাজারে আনা এবং সম্পত্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ-সংক্রান্ত একটি ডিক্রি-আইন অনুমোদন করা হয়। দেশটির প্রেসিডেন্সিমন্ত্রী আন্তোনিও লেইতাও আমারো এ ঘোষণা দেন।

পর্তুগালের সংবাদমাধ্যম ইসিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় যৌথ উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি নিয়ে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সমঝোতা না হলে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তা বিক্রি করা যাবে। তবে বিক্রির আগে বিরোধ মেটাতে বা ব্যক্তিগতভাবে সম্পত্তি বিক্রির ব্যবস্থা করতে উত্তরাধিকারীরা ছয় মাস সময় পাবেন। এ সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে স্বাধীন মূল্যায়নের মাধ্যমে সম্পত্তির বাজারমূল্য নির্ধারণ করে ইলেকট্রনিক নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে।

নতুন নিয়মে উত্তরাধিকারীরা নিজেরাও ওই সম্পত্তি কেনার সুযোগ পাবেন। তবে পরিবারের বসবাসের বাড়ির ক্ষেত্রে বিশেষ সুরক্ষা রাখা হয়েছে। জীবিত স্বামী বা স্ত্রী কিংবা আইনস্বীকৃত সঙ্গীর স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া এমন বাড়ি বিশেষ বিক্রয়প্রক্রিয়ার আওতায় আনা যাবে না। দেউলিয়া উত্তরাধিকার-সম্পত্তিও এ প্রক্রিয়ার বাইরে থাকবে।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালের আদমশুমারিতে পর্তুগালে প্রায় ৪ লাখ ৮৫ হাজার বাড়ি খালি থাকার তথ্য উঠে এসেছে। এর অর্ধেকের বেশি ভালো অবস্থায় থাকলেও বিক্রি বা ভাড়ার জন্য নির্ধারিত নয়। এ ছাড়া উত্তরাধিকারসংক্রান্ত বিরোধের কারণে দেশটিতে প্রায় ৩৪ লাখ গ্রামীণ জমির প্লট অব্যবহৃত রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

নতুন আইনে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তির বণ্টন তদারকির জন্য একজন নির্বাহক নিয়োগ এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে সালিশি ব্যবস্থার বিধানও রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে ঝুলে থাকা উত্তরাধিকারসংক্রান্ত বিরোধ কমানো এবং অব্যবহৃত বাড়ি ও জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

Home R3