ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীর রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
আজ রোববার (১ মার্চ) বিকেল ৩টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে এই মিছিল শুরু হয়। কর্মসূচিতে দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব বলেন, পবিত্র রমজান মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে যে হামলা চালিয়েছে তা শান্তিকামী সকল মানুষের হৃদয়ে আঘাত দিয়েছে। এই হামলার মধ্য দিয়ে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সন্ত্রাসী রূপের আবারও বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর হামলা আমরা মেনে নিতে পারি না। ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির পরিপন্থী। এমনকি ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনও লঙ্ঘন করেছে। একটি স্বাধীন দেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিকে হত্যা করা আন্তর্জাতিক কোনো রীতিতেই পড়ে না। এ হামলায় ইরানের একটি স্কুলের শতাধিক শিশুকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মানবতাবিরোধী চরম অপরাধ সংঘটিত করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা এই মুহূর্তে ইরানি জনগণের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। শান্তিকামী বিশ্বকে আহ্বান জানাচ্ছি ইরানের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। আরব দেশের জনগণকে আহ্বান করছি মার্কিন দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার জন্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি বিনষ্টকারী রাষ্ট্র ইসরাইলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ইরানে এ হামলার বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনতে হবে এবং মার্কিন ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ জানাতে হবে। বাংলাদেশের বিপ্লবী জনতা দখলদারদের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করছে।
খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী উত্তর সভাপতি মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকারের সভাপতিত্বে ও মহানগরী দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমি, যুগ্ম মহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল ও অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল।
এছাড়া বক্তব্য দেন- কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন আহমদ খন্দকার, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলী, খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর উত্তর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ওলামা সম্পাদক মাওলানা ফরিদ আহমদ হেলালী এবং শ্রমিক মজলিস ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মতিউর রহমান।
উল্লেখ্য, সমাবেশ শেষে উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।